ভারতের মুসলিম নির্যাতন ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি!

প্রকাশিত: ০৬ অগাস্ট, ২০১৯ ০৬:১০:০০ || পরিবর্তিত: ০৬ অগাস্ট, ২০১৯ ০৬:১০:০০

আলমগীর গোলাপ: ভারতে অপ্রতিরোধ্য রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদের জাগরণ, প্রতিষ্ঠা ও এগিয়ে যাওয়া এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর ধর্মীয় জাতিগত নারকীয় নির্যাতন, নিপীড়নের কারণ জানতে হলে আমাদের ভারতের নিকট ইতিহাসের একটু দিকে তাকাতে হবে। তাহলে বুঝা যাবে আজ ভারতে মুসলমানদের এই করুণ পরিণতির জন্য মুসলমানদের অজ্ঞতা ও অসচেতনতাও কম দায়ী নয়।

একটু পিছনে ফিরে সমীকরণগুলো মিলিয়ে নেই-

ভারতের_রাজনীতিতে_হিন্দু_মুসলমান-

১৮৮৫ সালে গঠিত হয় কংগ্রেস, ১৯৪৭-২০১৯ পর্যন্ত ৭৩ বছরের স্বাধীন ভারত শাসনের ইতিহাসে কংগ্রেস প্রায় ৬১ বছরের একচ্ছত্র শাসক দল। এখনো ভারতের বৃহৎ জনপ্রিয় ও কার্যকর শক্তিশালী বিরোধী দল। অন্যদিকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয় ১৯০৬ সালে, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন ও দেশ ভাগের মাত্র ২ বছর পর ক্ষমতার দ্বন্দ ও মতপার্থক্যগত কারণে প্রথমে ভাঙন, পরে প্রায় বিলুপ্ত হয় মুসলিম লীগ।

এটা গেলো ভারতীয় মুসলিমদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ভারতের_ধর্মীয়_সাম্প্রদায়িকতায়_হিন্দু_মুসলমান- ১৯১৫ সালে গঠিত হলো হিন্দু মহাসভা, যা ১৯২৫ সালে রূপ নিলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে, যা আজকের ভারতের অপ্রতিরোধ্য প্রতাপশালী সাম্প্রদায়িক শাসক দল। ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) এর প্রাণশক্তি এবং আধা-সামরিক ইউনিট।

অন্যদিকে তুরস্কের সালতানাত রক্ষা করতে ১৯১৯ সালে ভারতে শুরু হলো অলীক খেলাফত আন্দোলন। মাত্র ৫ বছরের মাথায় তুর্কি জাতীয়তাবাদী কামাল আতাতুর্কের দ্বারা স্বদেশেই সালতানাতের কবর হলে, সেই সাথেই ভারতীয় অলীক খেলাফত আন্দোলনের দাফন হয়। এটা গেলো ভারতীয় মুসলিমদের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ব্যর্থতা।

ভারতের_শিক্ষা_আন্দোলনে_হিন্দু_মুসলমান-

ভারত স্বাধীন হওয়ার ৯ বছর পর ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় Indian Institute of Technology(IIT)। উল্লেখ্য- এই IIT প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। যে প্রতিষ্ঠান মাত্র ৬৩ বছরে বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে ভারতকে বিশ্বের সেরাদের তালিকায় স্থান করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই IIT আজ শুধু ভারত নয় বরং সারা বিশ্বের সেরা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মধ্যে অন্যতম।

অন্যদিকে স্বঘোষিত ইসলামের খাদেম খাঁটি মুসলমানগণ কর্তৃক ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতসহ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুণ উলুম দেওবন্দ। যে প্রতিষ্ঠান কওমের খরচে পরিচালিত হয়ে ১৫৩ বছরেও মাদ্রাসার নিজস্ব এলাকা উত্তর প্রদেশের অসহায় মুসলিম কওমের লোকদেরকে উগ্র হিন্দু কওমের লোকদের নির্যাতন থেকে রক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। এটাই হলো ভারতের মুসলিমদের শিক্ষা আন্দোলনের ব্যর্থতা।

ভারতের_সংস্কৃতি_আন্দোলনে_হিন্দু_মুসলমান-

বিংশশতাব্দীর প্রথম দশকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিমনারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, আদর্শ, জীবনাচারের আলোকে বোম্বে থেকে ১৯৩০ সালে বলিউড নামে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। সেই বলিউড প্রায় ১০০ বছরের সাধনার মধ্য দিয়ে আধুনিক সংস্কৃতির সাথে পৌরাণিক ভারতের রামায়ণ, মহাভারতের কাহিনি, বিশ্বাস, আদর্শ, চরিত্র সমগ্র ভারতসহ বিশ্বের দরবারে প্রচার করে।

ইতোমধ্যে  নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও শক্ত সাংস্কৃতিক অবস্থান তৈরি করেছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রদেশ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আদর্শ, বিশ্বাস, কাহিনী, চরিত্রগুলোকে অতি ইতিবাচক ভাবে প্রচার ও প্রসার করে চলেছে, যা ইতোমধ্যে দেশপ্রেম তথা ভারত প্রেমকে সমগ্র ভারতের হিন্দু মানসে ধর্মীয় আর্চনার শামিল উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতীয় মুসলিমদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বলে কিছু আছে কিনা তা সচেতন মহলের জানা নেই। উপরন্তু কিছু কিছু নামধারী মুসলিম লেখক, প্রযোজক, পরিচালক দ্বারা ইসলামের সম্মান, মর্যাদা হেয় করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে ইসলামের মূল আদর্শ, বিশ্বাস, চরিত্রের উপর সাংস্কৃতিক আক্রমণ চালানো হয়েছে।

সুতরাং ভারতে এবং তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহে মুসলমানদের এই পতন ও করুণ পরিণতি একদিনে তৈরি হয়নি, এগুলো দীর্ঘ দিনের অজ্ঞতা ও অসচেতনতার অনিবার্য পরিণাম। আর এই পতন থেকে মুক্তিরও আপাতত কোন যুগোপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ ভারত ও তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের যথাযথ মুসলিম নেতৃবৃন্দ নিয়েছে বলে দৃশ্যমান না।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ