পৃথিবীর ইতিহাসে জুলাই সবচেয়ে উত্তপ্ত

প্রকাশিত: ০৬ অগাস্ট, ২০১৯ ১১:২৮:০৪

চলতি বছরের জুলাই তাপমাত্রা রেকর্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস ছিল। ইউরোপের একটি জলবায়ু সংস্থা সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা রেকর্ডের ক্ষেত্রে এই বছরের জুলাই মাস অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা ‘দ্য কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ হিসাব করে দেখেছে এবারের জুলাই মাসের তাপমাত্র ১৯৮১ থেকে ২০১০ গড় তাপমাত্রা থেকে ১ দশমিক ০১ ডিগ্রি বেশি ছিল। ইন্টার গভর্নমেন্ট প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইসিসি) জানিয়েছে, এই তাপমাত্রা শিল্পায়নের আগের যুগের থেকে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই বিশ্বব্যাপী উষ্ণতম মাস ছিল। তবে ২০১৬ সালের জুলাই মাসের তুলনায় এবার তাপমাত্রা বেড়েছে ০ দশমিক ০৭ ডিগ্রি।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, পৃথিবী তার ইতিহাসের উষ্ণতম বছরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রাপ্ত সকল উপাত্ত এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, এই সময়কাল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম পাঁচ বছর হতে চলেছে। উল্লেখ্য, প্রায় ১০০ বছর আগে থেকে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হয়।

ওয়ার্ল্ড মেট্রোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল পেততেরি তালাস বলেছেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাপমাত্রার ডজনখানেক রেকর্ডের কারণে এ বছরের জুলাই মাস জলবায়ুর ইতিহাস নতুন করে লিখেছে। এটা কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক কল্পকাহিনী নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে এটি ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে।’

দ্য কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস মাসওয়ারি তাপমাত্রা রেকর্ডের হিসাব আগাম প্রকাশ করে। একই সঙ্গে এই সংস্থা অন্য প্রতিষ্ঠানের থেকে একটু ভিন্নভাবে উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি হিসাবের সঙ্গে কোপার্নিকাসের হিসাবের তেমন গরমিল থাকে না।

ভূতাপ সংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের জলবায়ু বিজ্ঞানী জিক হাউসফাদার বলেন, ‘প্রতি বছর উষ্ণতার নতুন রেকর্ড তৈরি হোক, সেটি আমরা চাই না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, যা হচ্ছে তা স্পষ্টতই জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘আমরা সব সময় উষ্ণ গ্রীষ্মের মধ্যে বসবাস করেছি। কিন্তু তরুণ বয়সের দেখা গ্রীষ্ম এটা নয়।’

তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে জমে থাকা বরফ গলানোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুধু জুলাইয়ে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ১৯৭ বিলিয়ন টন পানি যুক্ত হয়েছে। এই পরিমাণ পানির কারণে সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার (০ দশমিক ০২ ইঞ্চি)।

প্রজন্মনিউজ/দেলাওয়ার হোসাইন।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন