ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৬ অগাস্ট, ২০১৯ ১০:৪১:২৫

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও চারজন বেড়েছে।

সোমবার ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া খুলনায় মারা যান এক নারী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নকুশ দাস (৪৫) ও হাসান (১৩)। অন্তঃসত্ত্বা শারমিন আরা শাপলার (৩২) মৃত্যু হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। খুলনায় খাদিজা বেগমের (৪০) মৃত্যু হয় সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শারমিন আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম নাজমুল হকের স্ত্রী। তিনি জয়পুরহাট পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে তিন দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া যান নাজমুল। তার আগে স্ত্রী ও ছেলেকে বাড়িতে রেখে আসেন।

শারমিনের ভাই জহুরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শারমিন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে যান।

শুক্রবার দুপুরে শারমিনের জ্বর শুরু হলে তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শারমিনকে। অবস্থার অবনতি হলে বিকালে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

ভোর সাড়ে ৫টায় শারমিনের মৃত্যু হয় বলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এস এ এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেলে সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যাওয়া কিশোর হাসান ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরমালিপা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, ভোলা থেকে আনার পর রোববার রাতে হাসানকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

নকুল দাস রাজধানীর শনির আখড়ার এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।

নাসির উদ্দিন  বলেন, “নকুল দাস ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর ওয়ানস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের আইসিইউতে তাকে রাখা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।”

নকুল দাসের ভাতিজা শুভ দাস জানান, তার চাচার ২০১৬ সালে স্ট্রোক হয়েছিল। তখন থেকে তিনি অসুস্থ। গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগলেও তার ডেঙ্গু নির্ণয়ের কোনো পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানান শুভ।

 এনিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বলে নাসির উদ্দিন জানান।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেলে ১৮৩ জন ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের নিয়ে রোগী এখন ৫৭০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মোট ২০৬৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন।

মাঝে দুদিন নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কমলেও রোববার থেকে এই ধারা আবার বাড়তির দিকে যায়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ১৭১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।ডেঙ্গুতে ‍মৃত্যু আরও ৪ জনের

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও চারজন বেড়েছে।

প্রজন্মনিউজ/দেলাওয়ার হোসাইন।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন