অর্থনীতিতে ঈদুল আজহা

প্রকাশিত: ০৪ অগাস্ট, ২০১৯ ১২:২১:১৬

আসন্ন ঈদুল আজহা দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর পবিত্র ধর্মীয় উত্সব। ঈদকেন্দ্রিক বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য কেনার ধুম লেগে যায়। ঈদুল আজহা পালনে অর্থনীতিতে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ, শিল্প উত্পাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটে। এ উৎসবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অর্থ লেনদেনসহ বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, যা গোটা অর্থনীতি তথা দেশজ উৎপাদন বস্থাপনায় প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ ঈদে জামাকাপড়ের ব্যবসা বেশি হয় না। তবে ভোগ্য পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে সেমাই, চিনি, দুধ, কিশমিশ, গরম মসলা, শুকনা খেজুরসহ ঝাল খাবারের উপকরণ— হলুদ, মরিচ, ধনেসহ মাংসের মসলার প্যাকেটজাত সামগ্রীর কেনাকাটায় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। শুধু নিজ পরিবারের জন্যই কেনাকাটা করেন না ভোক্তারা। ঈদ কেন্দ্রিক প্রায় সব ভোগ্যপণ্য কিনে উপহারস্বরূপ অনেকেই পাঠিয়ে দেন নিকট আত্মীয়দের বাসাবাড়ি কিংবা গ্রামের স্বজনদের কাছেও। ভারী খাবার হিসেবে পোলাও চালসহ অন্যান্য সুগন্ধিযুক্ত চিকন চালের কদরও দারুন বৃদ্ধি পায়। খাবারকে আরো রসনাদায়ক করে তুলতে ব্যবহূত আদা, পেঁয়াজ, রসুন, জিরা, তেজপাতা, লেবু, টম্যাটো ও শসার চাহিদাও বাড়তে থাকে; কিন্তু সাম্প্রতিক সারাদেশে ভয়াবহ বন্যার কারণে বেড়ে গেছে সব ধরনের মসলাসহ নিত্য প্রয়োজনতীয় দ্রব্যের দাম।

ঈদুল আজহার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে পশু কোরবানি। এ বছর ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানিকৃত পশুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ। যদিও বর্তমানে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ পশু। সে হিসাবে আসন্ন কোরবানির ঈদে উদ্বৃত্ত থেকে যেতে পারে ৮ লাখ পশু। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের অনলাইন বাজার। নিত্যনতুন পণ্যের সমাহার, বিভিন্ন ছাড় ও উপহারের কমতি নেই ভার্চুয়াল এ বাজারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি অনলাইন কেন্দ্রিক পশু কেনাবেচার বাজারও জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিক্রয় ও ব্যবহার উপলক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের কর্মযোজনা সৃষ্টি হয়। আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ করে রফতানি বাণিজ্য পাদুকা, পোশাক ও হস্তশিল্পে অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। এই চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ব্যবসা জড়িত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি বিশেষ ঋণ দিয়ে থাকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো দেয় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা। হজ পালন উপলক্ষে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল সংখ্যক অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। হজের ব্যবস্থাপনা ব্যয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা ও বিদেশি মুদ্রা ব্যয়ের সংশ্লেষ রয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরে এ উপলক্ষ্যে লেনদেন ও সেবাসূত্রে ব্যয় বেড়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও প্রবাসীরা ঈদ উপলক্ষে বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যাংক তাদের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোয় উত্সাহিত করার জন্য গ্রাহকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছে। সেসঙ্গে সরকারি বেসকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বোনাসের অর্থ জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।

প্রজন্মনিউজ/দেলাওয়ার হোসাইন।

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন