ওয়াসার ১১টি খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০১৯ ১১:০৩:৪৩

ওয়াসার ১১টি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য ১২টি প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান।

এসময় দুদক কমিশনার বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে নানা অজুহাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি করে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। আর এ কাজে ওয়াসা এমডি, প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসার সরবরাহ করা পানি এখনো পানযোগ্য নয়। অনুসন্ধান চালিয়ে ১১টি ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়ে থাকে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এসব দুর্নীতি বন্ধে টেকনিকাল লোক নিয়ে সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা যেতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে। ওয়াসার অনেক প্রকল্প অসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে তা শেষ করতে না পারলে ভবিষ্যতেও প্রকল্প বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হবে না।’

প্রকল্পগুলোতে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়ন থাকে। এতে সরকারের স্বার্থ রক্ষা হলেও জনগণের স্বার্থ ক্ষুন্ন বেশি হয়। যাতে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয় সে পরামর্শ দেন দুদক কমিশনার।
বিজ্ঞাপন

এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, আমরা সেগুলো অবশ্যই দেখব। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না সেটি এই সরকারের অঙ্গীকার। সব জায়গায় দুর্নীতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। দুর্নীতির কারণে আমাদের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সেটি যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের পাওয়া অভিযোগগুলো আমরা আমলে নিয়েছি। আমরা এগুলো তদন্ত করব। এবং কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে এ অঙ্গীকার আমি দিতে চাই।’

দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানিক টিমের সুপারিশমালার মধ্যে রয়েছে- ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্প বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি অর্থ অপচয় রোধে বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা কর্তৃক অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর সমন্বয়ে যৌথ পরিমাণ টিম ও মনিটরিং টিম গঠন। প্রকল্পের প্রক্কারণ তৈরির সময়ে কাজের যথার্থতা ও উপযোগিতা আছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে। বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যাতে অহেতুক না বাড়ানো হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা।

দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মিনিটরিং বাড়াতে মন্ত্রণালেয়ের শক্তিশালী টিম গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন, ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের পূর্বে সুনিশ্চিত হতে হবে শর্তানুযায়ী প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করেছে কিনা, ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপ স্থাপন, মিটার রিডিং ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মিটার রিডিংয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

অবৈধ ওভারটাইম বিল রোধকল্পে ঢাকা ওয়াসার কর্মচারীদের জনবল কাঠামো সুনির্দিষ্ট করে ও বিধিমালা প্রণয়ন করা। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন, সওজ,বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা।

ওয়াসার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে গণমাধ্যম, দুদক, অডিট ডিপার্টমেন্টসহ সবার নজরদারি বাড়ানো। দুর্নীতি প্রতিরোধে সেবা গ্রহীতাদের নিয়ে ওয়াসার গণশুনানির আয়োজন করা; ওয়াসার মেগা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নাধীন অবস্থায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ টিমের আকস্মিক অভিযান পরিচালনা; টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বুয়েটসহ অন্যান্য পেশাদার সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার কথাও বলছে দুদক।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ