ত্রিশ বছরের ইতিহাস ভাঙ্গলো গাইবান্ধায় এবারের বন্যা

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০৬:৪৬:০২

গাইবান্ধায় ত্রিশ বছরের ইতিহাস ভেঙেছে এবারের বন্যা। চর ছাপিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ভাসিয়ে শহরেও ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ ভয়াবহ পরিস্থিতি । গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আজ ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯৩ সেন্টিমিটার,করতোয় নদীর পানি ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি,গোবিন্দগঞ্জ ও সদর উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন এবং গাইবান্ধা পৌরসভা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাঁধ ভেঙে গাইবান্ধা শহরের দুই তৃতীয়াংশ এলাকার বাসাবাড়ি তলিয়ে গেছে। অপর দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ঢুকে পড়ে বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ১১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ।

ব্রহ্মপুত্রের পানি চরের বাড়িঘরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। পানি বন্দী মানুষ আশ্রায় কেন্দ্র ছাড়া অনেকেই হাট বাজারে উচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে ঠাই নিয়েছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবারপানি , শুকনা খাবার, ছোট শিশুদের খাবারের অভাব। পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্যর অভাব । ভানবাসীরা নানান রোগে আক্রান্ত হলেও রাস্তা ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে ও বন্যার পানির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসা নিতে পারছেনা ।

ত্রিমোহিনী রেল জংসন ও আশপাশের এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাট- সান্তাহারগামী লোকাল ও মেইল ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে লালমনি এক্সপ্রেস কাউনিয়া- রংপুর-পারবর্তীপুর-শান্তাহার হয়ে ঢাকা চলাচল করছে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস রংপুর-পারবর্তীপুর- শান্তাহার হয়ে ঢাকা চলাচল করছে। এছাড়া কদমতলী এলাকায় একটি সেতু পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে পরার উপক্রম হয়েছে। বালির বস্তা দিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা চলছে।

বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তাঘাট সব ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ২০ কিলোমিটার পাকা রাস্তাঘাট,২৫০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ৩৬ কালভার্ট ও পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ। অন্যদিকে ২ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ৪ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

গাইবান্ধার স্থানীয় এস.কে.এস ফাউন্ডেশনও গণ উন্নয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ইনজিও গুলো বন্যায় কবলিত এলাকায় এখনো বন্দ রাখেননি ঋান আদায়। গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোখছানা বেগম জানান, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ ৪ উপজেলায় জেলা ত্রাণ ভান্ডার থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ টাকা ও ৪ হাজার কার্টুন শুকনো খাবার। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে সেগুলো বিতরণের কাজ চলছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন