তীব্র গরমে অতিষ্ট সিলেটবাসী,বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০১৯ ০২:০৪:৩৮

হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট : পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের পর হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেটের আকাশ বাতাস। তীব্র গরম ও যানজটে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বিভাগীয় নগরী সিলেট। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাবদাহ। তীব্র দাবদাহে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সিলেটের সর্বস্থরের মানুষ। তাঁতালো রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত।

খুব সকালের ঝলমলে রোদ ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে ঝড়াতে থাকে তাপ। বাড়তে থাকে অসহ্য গরমের তীব্রতা। তবে নাগরিক জীবনে মানুষকে এই অসহ্য গরম উপেক্ষা করেই ছুটতে হচ্ছে নিজ কর্মস্থলে। আর কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হলেই তীব্র দাবদাহে শরীর থেকে পানির পরিমাণ কমতে থাকে। খানিক হাটাচলাতেই যেন তৃষ্ণায় বুক ফেটে যায়।

তাই তীব্র গরমেসৃষ্ট পিপাসায় কর্মব্যস্ত নগরবাসীর তৃষ্ণা মেটানোর সুজোগে রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমান অবস্থায় গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরণের শরবত, কোমল পানীয় ও মৌসুমি ফলের ভাসমান দোকান। লোক সমাগম বেশি এমন জায়গায় আনারস, তরমুজ, বেল, ডাব, কাঁচা আম, শসা ইত্যাদি নানান ফল নিয়ে ভীড় করছেন বিক্রেতারা। আর পথচারীরাও ভ্যাপসা গরমে একটু শান্তি ও একটু প্রশান্তির আশায় ভিড় করছেন এইসব ভ্রাম্যমান শরবতের দোকানগুলোতে।

পাঁচ থেকে দশ টাকা দিয়ে একগ্লাস শরবত পান করে আবার ছুটছেন গন্তব্যে। আর এই সুযোগে মৌসুমী ব্যাবসায়ীরা অল্প পুঁজি খাটিয়ে কামিয়ে নিচ্ছেন দ্বিগুণ টাকা। তবে এ ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই ময়লা ও দূষিত উপাদান দিয়েই শরবত তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ফুটপাতের এই সব কোমলপানীয় পানে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। ডা. আক্তার হোসেন বলেন, ‘এই সব পানীয় বেশিরভাগ সময়ই তৈরি হয় খোলা পরিবেশে, ময়লা ও দূষিত উপাদান দিয়ে।’

ফলে এসব কোমল পানিও পান করার কারনে হতে পারে টাইফয়েড, জণ্ডিস ও ডাইরিয়ার মতো মারাত্মক সব রোগ। তবে সরকার চাইলেই এই মানব দেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই সব পানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় বিভিন্ন সময়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান চলে। হোটেল রেস্তোরায় অভিযান চললেও ফুটপাতের এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তারা তেমন ব্যবস্থা নেন না।

তবে দূষিত উপাদান দিয়ে এই সব কোমল পানীয় তৈরির অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করলেন বিক্রেতারা। কথা হয় চাকুরীজীবী আলতাফ মিয়ার সাথে, তিনি একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকুরী করেন, তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছি, কিন্তু কি করবো চাকরি করতে হয় বলে অসুস্থতা ও অসহ্য গরম উপেক্ষা করেও অফিসে আসতে হয়। তাই শরীরটা একটু ঠান্ডা রাখতেই রাস্তার পাশের খোলা দোকান থেকে তরমুজ খাচ্ছি।

পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন একই দোকানের আরেক ক্রেতা নাবিল, তিনি বলেন, তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে ঝুঁকি জানার পরও এসব খাচ্ছি। কিন্তু আতঙ্কে আছি বড় কোনো রোগ বেধে না যায়! তিনি জানান, সচারাচর তিনি এইসব খোলা শরবত খান না। কিন্তু এবার গরমের যে অবস্থা তাতে করে রাস্তায় বেড়িয়ে জীবনটা কোনো মতে বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে এসব খাচ্ছেন। দিনে ও রাতে ভাপসা গরমে অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন।

আজকের তাপ বাতাসে আপেক্ষায় জলীয়বাষ্প ও আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকার কারণে মানুষ অতিরিক্ত পরিমানে ঘামছে, অসহনীয় গরমের কারণে সিলেট বিভিন্ন স্থানে গাছের ছায়ায় অনেকেই বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এক পথচারী জানান, একে’তো তীব্র গরম তার উপর আবার রাস্তায় জ্যাম দুটো মিলে খুব খারাপ অবস্থা। বাহিরে বের হলেই ঘামে কাপড় ভিজে যাচ্ছে, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। আর প্রচুর পরিমাণ পানির পিপাসা লাগছে। ফলে কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না।

তাই গরম থেকে রক্ষার জন্য স্বাস্থ্যঝুকির আশংকা সত্ত্বেও ফুটপাতের দোকান থেকে ঠান্ডা শরবত পানীয় পান করতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে সিলেটসহ সারা দেশের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেটে আজ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ