অভিযানের সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক ছিল না

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০১৯ ০৫:০৩:৫১

অভিযানে গিয়ে আড়ংয়ের উত্তরা শাখাকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানার সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বদলির কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

এরপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক ধারণা দূর করতে শাহরিয়ারের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিব। মঙ্গলবার জাগো নিউজকে এ সব কথা বলেন জনপ্রশাসন সচিব।

পাঞ্জাবির অতিরিক্ত দাম রাখায় সোমবার আড়ংয়ের উত্তরা শাখাকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। এরপরই বিকেলে তাকে খুলনা জোনের সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এরপরই সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমলোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার শাহরিয়ারের বদলি আদেশটি বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বদলির আদেশ জারি ও তা বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘বদলির ফাইলটি গত ২৯ মে বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে উপস্থাপন করা হয়। মাঝখানে দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি ও শবে কদরের বন্ধ ছিল। ফাইলটি ৩ জুন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফাইনাল অ্যাপ্রুভ হয়। কিন্তু তিনি (উপ-পরিচালক শাহরিয়ার) মোবাইল কোর্ট করেছেন ৩ জুন দুপুরে। এখন বলুন, এই বদলির অর্ডারের সঙ্গে কী মোবাইল কোর্টের কোনো সম্পর্ক আছে?’

তিনি বলেন, ‘আমরা ই-ফাইলিং ব্যবস্থায় ফাইল নিষ্পত্তি করি। সব ডকুমেন্ট আছে। একেবারে সেকেন্ড পর্যন্ত উল্লেখ থাকে। ঈদকে সামনে রেখেও আমরা এই অর্ডার করিনি। আরও কয়েকটি বদলি হয়েছে। এটা আমাদের কন্টিনিউয়াস প্রসেস। তারা ঈদের পর একটা সময়ে যোগ দেবেন।’

‘স্যোশাল মিডিয়ায় যেহেতু একটা ভুল ধারণা যাচ্ছে এজন্য আমাদের প্রতিমন্ত্রী ও আরও যারা ঊর্ধ্বতন আছেন তাদের সাথে আলোচনা করে আদেশটি বাতিল করা হয়। আমরা তো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বুঝাতে পারব না’ বলেন ফয়েজ আহম্মদ।

সচিব বলেন, ‘আমরা তার বদলির আদেশ বাতিল করেছি, তিনি ওখানে (ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর) থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘রুটিন অনুযায়ী বদলি হয়ে থাকে। তবে কে কোনটার সাথে মেলাবেন এটা হচ্ছে বিষয়। বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ার যে ভিউজ সেখানে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে সেজন্য আমরা আদেশটি বাতিল করেছি।’

জনপ্রশাসন সচিব আরও বলেন, ‘বদলির আদেশটিতে যে ছেলেটি স্বাক্ষর করেছে, তাকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক লেখালেখির কারণে সে খুবই আহত হয়েছেন। বলুন এটা কী শোভন হয়েছে? এই পর্যায়ের একজন উপসচিবের কী বদলি করার ক্ষমতা আছে?’

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন