চিরিরবন্দরে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০১৯ ১০:৩৬:৩৫

মোঃ শরিফুজ্জামান, দিনাজপুরঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অভিযোগে চিরিরবন্দর উপজেলার খোচনা গ্রামের খয়েরউদ্দিন শাহ পাড়ার আব্দুল হামিদের ছেলে জাকির হোসেন (২২) ও তার দুই সহযোগিকে আটক করেছে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।

অভিযোগ ও থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলার খোচনা গ্রামের কবিরাজ পাড়ার ওই মাদ্রাসা ছাত্রী রবিবার রাতে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে নিজেদের বাড়িতে আসে। এ সময় ছাত্রীর বাবা চায়ের দোকানে এবং মা বড় বোনের বাড়িতে থাকায় পুরো বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে জাকির হোসেন খাটের নিচে ওত পেতে থাকে।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে, ‘আমি রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রতিবেশী দোলনের বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে এসে শয়ন কক্ষে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করি। এমন সময় আগে থেকেই খাটের নিচে ওত পেতে থাকা একই গ্রামের মো. জাকির হোসেন (২২) খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আমার মুখ চেপে ধরে এবং আমার দুই হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

এই সময় আমি জোরে চিৎকার করতে শুরু করি। আমার চিৎকারে জাকির হোসেন ও তার সহযোগিরা পালিয়ে যেতে চাইলে প্রতিবেশী দোলন রায়, মো. রায়হান কিবরিয়া, মো. ইয়াকুব আলীসহ আরো কয়েকজন এসে ধর্ষক জাকির হোসেন ও তার সহযোগিদের আটক করে বেঁধে রাখে। জাকির হোসেনকে সাহায্যকারী দু’জন হলো, খোচনা গ্রামের খয়ের উদ্দিন শাহ পাড়ার মৃত একরামুল হোসেনের ছেলে মো. মামুন হোসেন (১৯) এবং খোচনা গ্রামের বানুপাড়ার মো. মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রাসেল রানা (২০)।

অভিযোগকারী আরও জানায়, ‘খবর পেয়ে আমার বাবা চায়ের দোকান বন্ধ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন আলমকে সাথে নিয়ে বাড়িতে আসে। ঘটনার বিস্তারিত বললে আমার বাবা ও ইউপি সদস্য শাহিন আলম চিরিরবন্দর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ধর্ষণকারীদের থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারেসুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে পড়ে।

১৯ তারিখ রাতে জাকির হোসেন নামের এক বখাটে ওই মেয়ের ঘরে খাটের নিচে ওত পেতে থাকে এবং মুখ চেপে ধরে, হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ধর্ষণকারী ও তার সহযোগিদের আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। মেয়েটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ