বিএনপি চাইলেও মান্নার অনীহা

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০১৯ ০৪:২৫:০০

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে প্রার্থী করতে চায় বিএনপি। তবে এ প্রার্থিতার আগে বিএনপি চাচ্ছে মান্না যেন বিএনপিতে যোগদান করেন। কিন্তু মান্না দল বদল করতে রাজি নন বলে তাঁর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।

গতকাল  মাহমুদুর রহমান মান্না  এক সংবাদ মাধ্যমকে  বলেন, ‘বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে আছি। তাই আদর্শিক ঐক্য না হলে দলবদল বা কোনো দলে যোগ দেওয়ার প্রশ্ন অবান্তর।’

বিএনপিতে যোগদান না করে জোটগতভাবে বা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করা হলে উপনির্বাচনে অংশ নেবেন কি না-জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না, তার ওপর।’

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বগুড়া-৬ আসনে মান্নাকে প্রার্থী করতে চাচ্ছেন। আর তাঁর নির্দেশনায়ই সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মান্নাকে ওই প্রস্তাব দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আপনি আমাদের হয়ে নির্বাচন করুন।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু তিনি শপথ না নেওয়ায় গত ২৯ এপ্রিল ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৪ জুন ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও মির্জা ফখরুল প্রার্থী হচ্ছেন না, এটি সবাই ধরে নিয়েছে। কারণ সংসদে যোগদান প্রশ্নে দলের ভেতর ও বাইরে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত নিজের ইমেজ ধরে রাখার জন্য ফখরুল সংসদে যোগ দেননি। ফলে ওই অবস্থানের পরিবর্তন হবে বলে কেউ মনে করে না।

 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল শুক্রবার  বলেন, ‘উপনির্বাচনে প্রার্থী কে হবেন, তা জানি না। তবে মান্না হলে খারাপ হবে না।’ অবশ্য তাঁর মতে, ‘সরকারের সঙ্গে মান্নার সম্পর্ক ভালো নয়। ফলে প্রার্থী হলেও তাঁকে জিততে দেওয়া হবে কি না, সন্দেহ আছে।’

গত নির্বাচনে বগুড়া-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না। অনেকের মতে, তাঁর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ভালো নয়। কারণ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে সরকারের তিনি কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির সংসদে যোগদানেরও তিনি ঘোরবিরোধী ছিলেন। ফলে রাজনৈতিকভাবে ওই অবস্থানে থেকে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়াও তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন। তা ছাড়া বগুড়ার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁকে কিভাবে গ্রহণ করে, সে প্রশ্নও সামনে আছে।

তবে মান্নার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, উপনির্বাচন স্বচ্ছ-নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে, এমনটি নিশ্চিত হলে তিনি প্রার্থী হতেও পারেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/নাবিল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন