দুষণের দখলে ঢাকার পরিবেশ

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০১৯ ০৪:২৭:২৩

মুজাহিদ,স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ও সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের বসবাসের শহর ঢাকা । এটা নামে ঢাকা হলেও মুলত ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন দুষণে ।যার ফলে বিঘ্ন ঘটছে আমাদের সুন্দর জীবন যাপনের এবং সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের জটিল ও কঠিন রোগের ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ১৯৭ দিন রাজধানীবাসী দূষিত বাতাসে ডুবেছিল। আগের বছরগুলোতে রাজধানীর বাতাস বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২০ থেকে ১৬০ দিন দূষিত থাকত। অর্থাৎ ঢাকার বায়ুদূষণ সময়ের বিবেচনায়ও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, “রাজধানীর বাতাসে দ্রুত দূষণকারী পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে।” আর এই দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি। পরিবেশ অধিদপ্তর এদের কয়েকবার চিঠি দিয়ে দায় সেরেছে। কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

আবার রাজধানী ঢাকার মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনও কম দায়ী নয়। রিকন্ডিশন্ড ও দুর্বল ইঞ্জিনবিশিষ্ট পুরনো বাস-ট্রাক থেকে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এছাড়া শিল্প-কারখানার ধোঁয়া, ট্যানারিশিল্প, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, রি-রোলিং মিলের বর্জ্য, রাসায়নিক, ওষুধশিল্প ও মেটাল ওয়ার্কস বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। ইটভাঁটি, ব্রেড-বিস্কুট কারখানায় পোড়ানো কাঠ থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া জনাকীর্ণ এলাকায় নানা বিপন্নতার সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও অবকাঠামোসহ নানান কারণে ঢাকার নগরজীবন বিরাট হুমকির মুখে। রাজধানীতে যে কয়টি পরিবেশ দূষণকারী শিল্প-কারখানার অবস্থান, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প তার অন্যতম। বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্য হারানো ও দূষণের পেছনে হাজারীবাগের ট্যানারি-বর্জ্যে যথেষ্ট দায়ী।

চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৯ সালের ১০টি স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে এক নম্বর ঝুঁকি হলো বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন। আর গত বছর সংস্থাটির হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা ছিল তৃতীয়। ঢাকার বায়ুদূষণের এই চিত্র সরকারি সংস্থা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজেদের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে ১৯ জানুয়ারি ঢাকার বায়ুমান ছিল মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। বিশ্বের প্রায় বেশির ভাগ শহরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দূতাবাস ও

কার্যালয়ে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্র রয়েছে। ওই যন্ত্রে শহরগুলোর বায়ুমান প্রতি ঘণ্টায় হালনাগাদ করা হয়। ওই তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ ও ২০ জানুরারি বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা ছিল এক নম্বরে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নয়াদিল্লি।

অনিয়ন্ত্রিত এ দুষণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিটি মানুষ বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হুমকি স্বরূপ হয়ে পড়ছে। শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ নানা ধরণের রোগবালাই।যেটা অচিরেই আমাদের মৃত্যুর দ্বারপ্রন্তে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রজন্মনিউজ২৪

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ