চিরিরবন্দরে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হচ্ছে কলা

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০১৯ ০১:১১:১৭

মোঃ শরিফুজ্জামান, দিনাজপুরঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁচা ও অপুষ্ট কলাকে কৃত্রিম তাপ দিয়ে পাকানো হচ্ছে। কলার কাদির নিচে কেরোসিনের স্টোভ জ্বালিয়ে অক্সিজেন বন্ধ করে ও তাপ দিয়ে পাকানো হচ্ছে এসব কলা । উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ভ্যান কাঁচা ও অপরিপক্ব কলা আসছে কলা পাকানো হিটরুম আড়ত গুলোতে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে , এ পদ্ধতিতে ব্যবহার করছে কলা ব্যবসায়ী এর অনেকেই । তবে উপজেলার সব আড়তেই দেখা মিলছে এভাবে কলা পাকার দৃশ্য। রাণীরবন্দর ফল ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, কাঁচা ও অপুষ্ট যেকোন ফলই তাপ দিয়ে পাকানো সম্ভব। এ তাপ পদ্ধতিতে আম পাকাতে তিন দিন সময় লাগে। পেঁপে দুদিন,কলা এক থেকে দু,দিন ।

এভাবে কলা পাকনোর পর এখান থেকে পাইকারী দরে বিক্রি হয় । পরে আড়ত থেকে খুচরা ক্রেতাদের মাধ্যমে চলে যায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে। এ বিষয়ে আড়ত মালিক আব্দুল মালেক (ছদ্ম নাম) বলেন, তাপ দিয়ে কলা পাকানো হলেও কোন রাসানিকের ব্যবহার নেই।  এ ক্ষেত্রে কলাটি নিরাপদ। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, তাপ দিয়ে পাকানো কলায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

উপজেলার রাণীরবন্দর বাজারের নুর ইসলাম(৩৭) নামে একজন ভোক্তা বলেন , হিট দিয়ে কলা পাকানোর কারনে ফলের স্বাদ আগের মত পাওয়া যায়না। আগে একটি পেঁপে যেমন মিষ্টি লাগতো , এখন সেটা মনে হয় না। তবে এতে প্রশাসনের নজরদারি থাকলে হয়তো এভাবে ফল পাকাতে পারতেন না ফল ব্যবসায়ীরা । এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মূর্তজা আল মামুন বলেন, কৃত্রিম তাপে পাকানো ফল খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে।

একই সঙ্গে ফলের ন্যসারেল পরিপূর্ণ কোন গুনগত থাকেনা । কেরোসিনের গ্যাস থাকে। এসব ফল খেলে এলার্জিসহ নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। সাধারন ভোক্তাদের এ বিষয়ে সর্তক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: গোলাম রব্বানী বলেন, উপজেলায় কৃত্রিম উপায়ে কলা বা অন্য ফল পাকানো হলে তথ্য দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ