গোশতের মূল্য বাড়ছে অন্য কারণে

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০১৯ ১০:০৮:৪৩

গাবতলী পশুর হাটে চাঁদাবাজির জন্য মাংসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছে গাবতলী হাট কর্তৃপক্ষ এবং পশু ও মাংস ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

সকলের পক্ষে গাবতলী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য সানোয়ার হোসেন লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন গাবতলী গবাদি পশু ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মো. মজিবর রহমান, গাবতলী পশুর হাটের ম্যানেজার আবুল হাশেম, সদস্য সচিব মো. সানোয়ার হোসেন ও কাপ্তান বাজার মাংস ব্যবসায়ী হাজী মো. রুবেলসহ আরও অনেক পশু ও মাংস ব্যবসায়ী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গাবতলী হাটে চাঁদাবাজির তথ্য সঠিক নয়। তাদের অভিযোগ, তথাকথিত মাংস ব্যবসায়ী নেতা রবিউল নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেয়র গাবতলী হাটে চাঁদা নেয়া হয় বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে করে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।

তারা জানায়, গাবতলী হাটে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সধারী মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাসিল হিসেবে প্রতি ছাগলে ৩৫ টাকা, গরু ১০০ টাকা এবং মহিষের ক্ষেত্রে ১৫০ নেয়া হয়। আর যাদের লাইসেন্স নেই তাদের ক্ষেত্রে শতকরা সাড়ে তিন টাকা হারে হাসিল নেয়া হয়। ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি গাবতলীতে চাঁদাবাজির কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি পায় তবে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মাংসের দাম ঢাকার চাইতে বেশি কেন?

আর সব মাংস ব্যবসায়ী কি শুধুমাত্র গাবতলী হাট থেকেই পশু কেনেন নাকি অন্য কোন হাটেও যান। নেতৃবৃন্দরা বলেন, গাবতলী পশুর হাটে চাঁদাবাজি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন দ্বারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া হোক। যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু মিথ্যা বদনাম কাঁধে নিতে পারবো না।

মাংসের দাম কেন বাড়ছে জানতে চাইলে তারা বলেন, বর্তমানে ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে সীমান্তরক্ষীদের যোগসাজশে কিছু গরু অবৈধভাবে নিয়ে আসলেও একজোড়া গরু সীমান্ত পার করতে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এরপর ঢাকায় আনতে ট্রাক ভাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির টাকা গুনতে হয়।

এছাড়া প্রতি গরুতে কমপক্ষে চার হাজার টাকা খরচ রয়েছে। সেই হিসেব ধরে বিক্রি হচ্ছে। যার কারণে মাংসের দাম বেড়েছে। ভারতীয় সীমান্ত উন্মুক্ত না হলে মাংসের দাম কমানো সম্ভব নয় বলেও জানান পশু ব্যবসায়ীরা।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন