ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে অনিয়ম


জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: বাইরে ফিট-ফাট থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভিতরের চিত্র ভিন্ন। অফিসের উপ-পরিচালকসহ প্রশিক্ষকরা নিয়মিত ও সঠিক সময়ে অফিসে আসে না। এখানে অনাবসিক ৬টি বিষয়ের উপরে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি বিষয়ের প্রশিক্ষণের ছাত্র- ছাত্রীদের উপস্থিত দেখা যায়।

বাকি আরও ৫ টি বিষয়ের প্রশিক্ষকসহ কোন প্রশিক্ষণারর্থীদের উপস্থিতি দেখা যায় না।  অফিসের উচ্চমান সহকারীর কাছে জানতে চাইলে, তিনি নানা অযুহাত দেখিয়ে ক্যামেরার সামনে থেকে দূরে ও অফিস থেকে বেড়িয়ে যান। দীর্ঘদিন কক্ষগুলো বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র গুলো।  এভাবেই কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাবিহীন ও অনিয়মিতভাবে চলছে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর অফিসের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাসহ সকল কার্যক্রম।

গত সোমবার (৬মে) বেলা আড়াইটার দিকে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরাসরি গিয়ে দেখা যায়, অফিসে চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া অফিসের দায়িত্বরত উপ-পরিচালকসহ কোন ট্রেডের ইন্সট্রাক্টর ও কোন প্রশিক্ষক উপস্থিত নেই, প্রশিক্ষক ও ইন্সট্রাক্টরদের রুমে তালা দেওয়া। সদর উপজেলার ১৫ কি.মি দূরে দেবিপুর ইউপি থেকে আসা রাজু ইসলাম (২৪) প্রশিক্ষণের বিষয়ে তথ্য জানতে এসে সে জানায়, সোমবার বেলা ৩টা সময় এসে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করেও যুব অফিসের কাওকে পাইনি সে। শেষে নিরুপাই হয়ে সে আবার বাড়ি ফিরে যায়। ওই দিন কার্মচারীদের ফোনে বিকেল পনে পাঁচটার দিকে কম্পিউটার ট্রেডের সহকারী প্রশিক্ষক তাপস মহ সরকার অফিসে এসে জানান, তিনি মধ্যাহ্ন ভোজ করতে গিয়েছিলেন ও তার ব্যাংকে কাজ ছিলো তাই তার আসতে দেরি হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আব্দুল কাদিরকে কল করলে ফোন ধরে তার ছেলে। তিনি জানান, তার পিতা মোবাইল ঘরে রেখে বাইরে গেছেন।

 সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত যুব কেন্দ্রে অবস্থান করে মাত্র ২জন সহকারী প্রশিক্ষককে পাওয়া যায়। পরে বৃহস্পতিবার (৯মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অফিসে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, কম্পিউটার ট্রেডের ৫- ৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ও একজন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। অন্যকোন ট্রেডের শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও ডিডি ও অফিসে নেই। উপ-পরিচালকের অফিস কক্ষ খুলা কিন্তু তিনি অফিসে আসেননি বলে জানান অফিসের কর্মচারীরা। বাকি ট্রেড গুলোর পর্যাপ্ত পরিমাণে সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণারর্থী ও প্রশিক্ষকগণের নেই কোনো উপস্থিতি। ট্রেড কক্ষে ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিন তালা বন্ধ থাকায় ও যতেœর অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ট্রেডের যন্ত্রাংশসহ টেবিল চেয়ার গুলো।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপ-পরিচালক আব্দুল কাদিরের মোবাইল ফোনে কয়েক বার কল করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহৎ জনগোষ্ঠি তরুণ সমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ হতে মুক্তির জন্য দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যাচ্ছে এই যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলোতে। যাতে করে তরুণ সমাজের যুুবক ও যুবতীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাদের কর্মসংস্থান তারা নিজেরাই গড়তে পারে। কিন্তু যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কিছু অলস, অসাধু ও অনিয়মকারী কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের এই লক্ষ্যটি আজও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না, এদের কারণে বাংলাদেশ সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

তাই দেশের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গুলোতে সরকারের আরও সুদৃষ্টি দেওয়া দরকার। যাতে দেশের বেকার যুবক ও যুবতীরা সঠিকভাবে প্রশিক্ষণগ্রহণ করে তাদের কর্মসংস্থান করতে পারে। এবিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইসতেহারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসতেহার হচ্ছে, “আমার গ্রাম হবে আমার শহর, তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করণ।” বাংলাদেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠি তরুণ সমাজ। এই তরুণদের শিক্ষিত করে ও প্রশিক্ষিত করে তোলা এবং তাদের মেধা প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হচ্ছে না ও ইন্সট্রাক্টররা নিয়মিতভাবে অফিসে আসছে না এবিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন