খুলনায় পাটকলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০১৯ ১১:৪১:৪৪

খুলনা অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। মিলগেটে তালা লাগিয়ে সামনে অবস্থান নিয়ে গতকাল সোমবার থেকে নোঙরখানা খুলেছেন শ্রমিকরা।

সোমবার দুপুরে প্লাটিনাম ও খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা নিজেরা চাঁদা তুলে মিল গেটের সামনে খাবার রান্না করে সব শ্রমিককে খাওয়ান। সোমবার স্ব-স্ব মিল এলাকায় শ্রমিকরা মিলগেটে মিটিং-মিছিল করেন।

আগামী ৮ মে ঢাকায় বৈঠক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চলের নয়টি রাষ্টায়ত্ত পাটকলে শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। পাশপাশি বিকাল ৪টা থেকে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে শ্রমিকরা জানান।

জানা গেছে, বকেয়া মজুরি না পাওয়ায় গত রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে প্রথমে স্টার জুট মিলস, সন্ধ্যা ৬টায় প্লাটিনাম জুট মিলস, রাত ৮টায় ক্রিসেন্ট জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। একইভাবে রাতে আরও পাঁচটি জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিজেএমসি আওতাধীন খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলস, দিঘলিয়া উপজেলায় স্টার, আটরা শিল্প এলাকায় আলীম ও ইস্টার্ন এবং যশোরের নওয়াপাড়ায় কার্পেটিং জুট মিলস ও যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি (জেজেআই) অবস্থিত। 

এ ব্যাপারে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সব কয়টির উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকেরা। মিল ভেদে এই পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের আট থেকে ১১ সপ্তাহের এবং কর্মচারীদের তিন থেকে চার মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। কর্মবিরতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক আলমগীর জানান, ‘কাজে যোগ দেয়ার পরে শুধু শবেবরাতে এক সপ্তাহের মজুরি দিয়েছে। আগের মজুরি তো দেয়ইনি বরং চলতি সপ্তাহেরও মজুরি দেয়নি। সবকিছু সহ্য করা যায়, পেটের ক্ষুধা কিভাবে সহ্য করি।’

শ্রমিক জালাল হোসেন বলেন, ‘আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। ঘরে একটা চালও নেই। রাতে কিছু খেয়ে রোজা রাখব সেই উপায়ও নেই। কাজ করি, আমাদের পাওনা টাকা দেবে না কেন?

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘নিয়মিত মজুরি না পেয়ে অর্থাভাবে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের সন্তানদের লেখাপড়াও চলছে না। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা একে একে খুলনা অঞ্চলের সকল রাষ্টায়ত্ত জুটমিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৮ মে ঢাকায় বৈঠক হবে। ওই বৈঠকের পূর্ব পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে এবং আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা থেকে রাজপথে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাস্তার পাশে বসে ইফতার করে কর্মসূচি শেষ করা হবে। ঢাকায় বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ