দুষণের দখলে ধানমন্ডি লেক

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০৬:১৮:১৪

মুজাহিদ,স্টাফ রিপোর্টার: জাতির পিতার ধানমন্ডি বত্রিশের বাসার সামনে দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ের দৃষ্টি নন্দন জলাশয় কালের বিবর্তনে এখন দুষণের দখলে।

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্হিত এ লেকের দৈর্ঘ্য ৩ কিমি, চওড়া ৩৫ থেকে ১০০ মিটার, সর্বোচ্চ গভীরতা ৪.৭৭ মিটার ও জলাশয়ের মোট আয়তন ৩৭.৩৭ হেক্টর।যেটা ধানমন্ডি এলাকার প্রায় ১৬% জায়গা জুড়ে অবস্হিত।

বিস্তৃত  এলাকা জুড়ে অবস্হিত এ লেক দর্শনার্থী এবং ভ্রমণপিপাসুদের মনোমুগ্ধকর স্থান হলেও সময়ের পরিক্রমায় এর পরিবেশ দিনে দিনে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর মুল কারণ হল দুষণ।

লেকের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে যে,  এর পনি দুষণটাই বেশি চোখে পড়ার মতো । লেকের পানির কোথাও কোথাও এমন অবস্থা যে, পানি দুষিত হয়ে এর রঙের পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে পানি দুর্গন্ধও হয়ে পড়েছে।

লেকের এই পানি দুষণের মুল যে কারণ সেগুলা হল এই লেকের আশেপাশের বিভিন্ন স্থানের ময়লা আবর্জনা,  বর্জ্য পদার্থ এখানে ফেলা। এছাড়া আরেকটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল লেকের পাশে অবস্থিত সুউচ্চ বৃক্ষগুলার ঝরা পাতা পানিতে পড়ে তা পচে পানি দুষণ ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে।

লেকের বিভিন্ন পয়েন্ট যেমন ধানমন্ডি ৩২, ধানমন্ডি ২৭, বিডিআর গেট, কলাবাগান আবাসিক ইত্যাদি। এসব পয়েন্টের বিভিন্ন প্রকারের দোকানীরা তাদের নিত্যদিনের অপ্রয়োজনীয় ময়লা আবর্জনাগুলা প্রতিনীয়তই লেকে ফেলে দিচ্ছে যেটা এই দুষণের এক টা কারণ। আর এই দুষণের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষগণ।

শেখ ফরিদ  নামে  এক ব্যাক্তির সাথে কথা বললে তিনি জানান,“ বিগত ৪ বছর যাবৎ এই লেকে আমি আসা যাওয়া করছি। কিন্তু ইদানিং এই লেকের পরিবেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।লেকের পানিও আগের থেকে অনেক খারাপ ও নোংড়া হয়ে গিছে।যেটা আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই হুমকিস্বরূপ।”

ধানমন্ডি লেক রাজধানী ঢাকার একটি দর্শনীয় স্থান হলেও এলাকায় দর্শণার্থীদের সচেতনতার অভাবে লেকটি প্রতিনিয়ত নোংরা হচ্ছে। ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও সুস্থ ব্যবস্থাপনার ওপর সম্প্রতি ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা করদাতা সমিতির এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা লেক দূষণ ও দখলমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার অক্সিজেন ভাণ্ডার এ লেক অতিমাত্রায় দূষণের শিকার। পানিও দিন দিন বিষাক্ত হচ্ছে। লেকের ভেতরের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা না গেলে এটি বুড়িগঙ্গার চেয়েও খারাপ অবস্থায় পড়বে।

প্রজন্মনিউজ২৪

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন