শপথ নিতে বাধ্য হয়েছি: জাহিদ

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:০৯:২৮

শীর্ষ নেতাদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে একাদশ সংসদে বিএনপির প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তার দপ্তরে জাহিদুর রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান।

শপথ নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহিদুর রহমান জাহিদ  বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই শপথ নিতে বাধ্য হয়েছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়েছি। দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে জেনেও আমি শপথ নিয়েছি। দল বহিষ্কার করলেও আমি দলে আছি। জাহিদ জানান, এর আগেও তিনি তিনবার নির্বাচন করেছেন। চতুর্থবারে এসে নির্বাচিত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে এর আগে কখনও বিএনপি জয় পায়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেন। স্পিকারের একান্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চিঠি পেয়ে সংসদ সচিবালয় আজ দুপুরে জাহিদুর রহমানের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩০০ প্রার্থীর মধ্যে জাহিদকে নিয়ে মোট ২৯৫ জন এ পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন।

বিএনপি থেকে নির্বাচিত আর পাঁচজন এখনও শপথ নেওয়ার বাকি। এদিকে এমপি জাহিদুর শপথ গ্রহণ করায় স্থানীয় জেলা বিএনপির নেতারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। অপরদিকে তিনি শপথ গ্রহণ করায় সাধুবাদ জানিয়েছেন নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা এলাকার উন্নয়নে এমপি জাহিদকে কাজ করার আহ্বান জানান। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও ঠাকুরগাঁও-৩ আসন (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) থেকে নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন জাহিদুর রহমান জাহিদ।

জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। এ ছাড়া মহাজোটের প্রার্থী মো. ইয়াসিন আলী (নৌকা) ৩৮ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ (লাঙ্গল) ২৭ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট আটজন নির্বাচিত হন। তার মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন ও গণফোরাম থেকে দুজন নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বর্জন এবং শপথ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি, তা এখনো বহাল আছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিতে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে বিজয়ী প্রার্থীদের।

সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে স্পিকারকে চিঠি না দিলে ৩০ এপ্রিলের পর তাদের আসন শূন্য হয়ে যাবে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এসব শূন্য আসনে অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা আশা করছিলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে দল সিদ্ধান্ত পাল্টাবে, শপথ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে হাইকমান্ড থেকে। ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান আর সেই ইঙ্গিতের অপেক্ষা করলেন না।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন