আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

বিশ্বকাপে দল পর্যালোচনা: বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৭:৩৭:৫২ || পরিবর্তিত: ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৭:৩৭:৫২

এম এ মামুন হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট বিশ্বের জনপ্রিয় একজন ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরতে গিয়ে মাশরাফির দলকে ‘ডার্কহর্স’ আখ্যা দিয়েছেন এই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সাতটা টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ দল। এখনো এসব ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি। তবে ধীরে ধীরে শিরোপা জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

রমিজ রাজার মত বিভিন্ন তারকা ক্রিকেটারও মনে করছেন এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এ সময়ের শ্রেষ্ঠে একটি দল গঠন করছে।দলে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে যারা ঠিক সময় মত যদি জ্বলে উঠতে পারে তাহলে যেতোন বড় দলকে হারাতে পারে। তবে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপে সব থেকে বড় চ্যালেন্জ সেখানকার কন্ডিশনের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়া।আর একাজটি করা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ হবে না।

কারণ সাধারণত বাংলাদেশ যে কন্ডিশনে খেলে সেটি স্লো ও স্পিন নির্ভর পিচ।কিন্তু ইংল্যান্ডের কন্ডিশন সম্পূণ এর বিপরীত সেখানে সাধারণত ফাস্ট বোলাররা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে ইংল্যান্ডে এবার  গ্রীষ্মকালে হবে বিশ্বকাপ। কিন্তু ইংল্যান্ডের  ‘সামার’ মানেও তো উপমহাদেশের জন্য ঠান্ডাই। কিন্তু সেই আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডে এখন খুবই শুকনো  আর গরম আবহাওয়ার মৌসুম চলছে। এটা অব্যাহত থাকলে এই উপমহাদেশের দলগুলো এবারের বিশ্বকাপে সুবিধা পাবে বলে মনে করেন কেভিন পিটারসেন।

এর থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে এই বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। দলে আছেন সিনিয়র এমন পাঁচ ক্রিকেটার যারা প্রত্যেকেই দশ বছরের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পার করে দিয়েছেন। মাশরাফি মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম খেলতে যাচ্ছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ। মাহমুদউল্লাহ খেলবেন তার তৃতীয় বিশ্বকাপে।

বাউন্সি উইকেটের সাবলীলতা, স্ট্রাইকরেট বেশি রাখার কারণে ধারণা করা হচ্ছে এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে উইকেট থাকবে ব্যাটিং বান্ধব। আগে ব্যাট করলে বড় পূঁজি দাঁড় করাতে হবে, পরে ব্যাট করলে ডিঙাতে হবে রানের পাহাড়।

দ্রুত রান তুলতে হবে, এই চাহিদায় বাংলাদেশের টপ অর্ডারে এমন কিছু ব্যাটসম্যান আছে যারা বল দ্রুত আসে এমন উইকেটে মেরে খেলতে পারেন। বাং লাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবল (স্ট্রাইকরেট 77.92)। আর সাম্প্রতিক ফর্ম বাদ দিলে তামিমের সাথে সৌম্য সরকার (স্ট্রাইকরেট ৯৮.৬০) অথবা লিটন দাস (স্ট্রাইকরেট ৭৯.৭৪), এদের পাশাপাশি সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম , মাহমুদউল্লাহ এরা সবাই সহজাত স্ট্রোক খেলার সামর্থ্য ও যোগ্যতা আছে।

যেহেতু এক প্রান্তে তামিমের দায়িত্ব থাকবে ইনিংস ধরে রাখা। অন্য প্রান্তে দরকার চালিয়ে খেলার। তাই সৌম্য বা লিটন যেই খেলুন কিংবা দুজনেই খেললেও রানরেটের চাপ না বাড়িয়ে খেলার ভরসা তাদের উপর সঙ্গত কারণেই করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যদলের তুলনায় বাংলাদেশ পেস আক্রমণকে বলা যায় বেশ গড়পড়তা।

অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে রসদ বের করে মাশরাফি তার শেষ বিশ্বকাপে বড় কিছু করতে চাইবেন। রুবেল হোসেন গতি, শর্ট বল আর রিভার্স স্যুয়িং করানোর সামর্থ্য দিয়ে প্রভাব ফেলতে পারেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যাকে নিয়ে আশা সেই মোস্তাফিজুর রহমান কেমন করবেন তা নিয়ে আছে সংশয়। ইংলিশ কন্ডিশনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ছিলেন সাদামাটা। কারণ তার বল গ্রিপ করাতে যেমন উইকেট দরকার ইংল্যান্ডে শুরুর দিকে তা থাকবে না।

কাজেই মোস্তাফিজের কাটার ভোঁতা হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। তাকে হয়ত উইকেট নেওয়ার চেয়ে রান আটকানোতে বেশি মন দিতে দেখা যেতে পারে। যতটুকুই কার্যকর হোন, ফিজের বিকল্প বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেই। পেস বোলারের পাশাপাশি স্পিনার হিসেবে সাকিবের সঙ্গে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন যাই থাকুক, বাংলাদেশের বোলিংয়ে তাদের থাকবে বড় ভূমিকা।

পেস অলরাউন্ডার হিসেবে শুরু করলেও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বোলিং এখন আগে চেয়ে বেশি ধারালো। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাকে আউটস্যুয়িং করাতে দেখা গেছে। বিশ্বকাপেও তিনি তা করতে পারলে বাংলাদেশের জন্য হবে বিশাল পাওয়া। সেই সঙ্গে শেষ দিকে তার ব্যাটিং তো বাড়তি পাওনা।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশে একটি ভারসম্যপূর্ণ দল গঠন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন এবার দলটি সর্বকালের সেরা একটি দল। তাই সবাই যদি নিজেদের জায়গা থেকে নিজের সেরা খেলা উপহার দিতে পারে এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারে তাহলে তাদের যে সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন সেটি পূরণ হবে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক ), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাইফউদ্দিন, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন ও আবু জায়েদ রাহী।

প্রজন্মনিউজ২৪/

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ