দক্ষিণ সুরমার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পরিবহন শ্রমিকদের দখলে!

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:৩৯:৩৬

সাকিল আহমেদ,সিলেট: কদমতলী পয়েন্টে নব নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বর ও কদমতলী টু ক্বীন ব্রীজ এলাকার রাস্তা এখন অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের স্থায়ী স্থানে পরিণত হয়েছে। সৌন্দর্য্য বর্ধন ও যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলার স্বার্থে চত্ত্বরটি সংস্কার কাজ শুরু হয়।কাজ শেষ না হতেই শ্যামলী পরিবহণের কয়েকটি বাস ও অন্যান্য যানবাহন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে পুরো চত্বরের ভিতরের এলাকাটি।

এ দখল ক্ষনিকের নয়,সবসময় কোন না কোন পরিবহন দখল করে রাখে এই চত্বরটি। এখানে যত্রতত্রভাবে গাড়ি পার্কিং করার ফলে অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থাকে আরো জটিল করে তুলেছে সড়কের উপরে জায়গা দখল করে থাকা ভাসমান ব্যবসায়ীরা। ফলে এলাকাটি সংকুচিত হয়ে দুরপাল্লার গাড়ি সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাধাসহ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

সেই সঙ্গে এ সড়কের পাশে বাস, ট্রাক, লেগুনা, ব্যাটারি চালিত টমটম, এবং সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে আশপাশের রাস্তা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও নাগরিদের। চত্ত্বরের ভিতরে দূরপাল্লার বাস রাখার ফলে দেখা যায় না রাস্তার অন্যপাশ। এতে যে কোন ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের ভিতর এবং এর আশপাশ (কদমতলী থেকে চাদনীঘাট) পুরো রাস্তার দু পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বাস, ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ড।

সেখানে দিনের সিংহভাগ সময়ই রাস্তার দু পাশে বাস, ট্রাক ও পিকআপ রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে রাস্তাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে মিনিবাসের টার্মিনাল। রাস্তার উপরেই চলে গাড়ি ধোঁয়া-মুছা ও মেরামতের কাজ। এতে যেমন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি এ পথে চলাচলকারীদের নিত্য হয়রানি ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো হেনস্থা হতে হচ্ছে চালক ও শ্রমিকদের হাতে।এতকিছুর পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তেমন কোন উদ্দোগ্য চোখে পরে নি।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-১৪১৮) এর ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক জানান, এখানে অবৈধভাবে প্রায় সব ধরনের বাস, ট্রাক, সহ বিভিন্ন ধরনের দুরপাল্লার গাড়ি রাখা হয়। দুর পাল্লার যানবাহনগুলো টার্মিনাল থেকে বের করে দেয়ার ফলে এবং আশপাশে গাড়ি না রাখতে পেরে হয়তো এ জায়গাটি তারা ব্যবহার করছে, তবে এটা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, এসব যানবাহন রাখার ফলে দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে এজন্য তিনি এসব জায়গা যানবাহন না রাখার জন্য অনুরোধ জানান। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং চট্ট ৭০৭) এর সভাপতি জাকারিয়া আহমদ জানান, এ চত্বর দিয়ে অনেক দুর পাল্লার যানবাহন চলাচল করে। আমি মনে করি এখানে এসব দূর পাল্লার বাস না রাখাই শ্রেয়।

তিনি বলেন, প্রশাসন ইচ্ছা করলে এসব যানবাহণের জন্য অন্যত্র জায়গা করে দিতে পারে। এখানে সিলেট জেলা অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং চট্ট ৭০৭) এর কোন স্ট্যান্ড নেই। তিনি এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এই চত্বর হয়েই যাতায়ত করতে হয় দক্ষিণ সুরমায় বসবাসরত ও সিলেট পলিটটেকনিক ইন্সটি্টিউট,সিলেট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ও সিলেট শাহপরান কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের। যানযট এর কারনে নিয়মিত ক্লাস ধরতে পারে না অত্র প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা,তাইতো ক্ষুব্দ হয়ে তারা বলেন মেয়র আরিফ সাহেব এর চোখে কি শুধু ফুটপাত উচ্ছেদ?উনি কি এসকল অবৈধ স্ট্যান্ড দেখে না?

এ বিষয়ে “দক্ষিণ সুরমা যুব কল্যান পরিষদ” এর সহ সভাপতি লায়েছ আহমেদ বলেন, কদমতলী পয়েন্ট দক্ষিণ সুরমার ব্যস্ততম একটি পয়েন্টে ।কারন এ পয়েন্টের কাছেই রয়েছে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়,মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড,বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস,ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ অফিসসহ নানা গুরুত্বপূর্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনা।

এখান দিয়ে সাধারণ পথচারী সহ স্কুল- কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের ফলে সাধারণ যাত্রী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মূল রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়,এতেই দূর্ঘটনার আশংখা থাকে। অবৈধ এসব স্ট্যান্ড ও পার্কিং উচ্ছেদ করে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ, এমনই প্রত্যাশাই আমাদের সকলের।

প্রজন্মনিউজ২৪/মুজাহিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ