শবে বরাত ও আমরা

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৬:২২:২৮

এম এ মামুন হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ। সরকারের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে পবিত্র এই বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বির্তক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।

আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র ও মহিমান্বিত একটি রাত। রাতটি লাইলাতুল বরাত নামেও পরিচিত। এর অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতির রজনী। পবিত্র এ রাতে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করলে, আল্লাহর কাছে নিজের পাপ-গুনাহ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন এবং অনুতপ্ত বান্দাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দিয়ে তাকে মাফ করে দেন। এ ছাড়া নেক বান্দার সব দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। বছর ঘুরে আবার এসেছে এই রাত।

এই দিনে ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের দেশে শবে বরাত উপলক্ষে রুটি, হালুয়া তৈরি করে গরিব-মিসকিন, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। দান-খয়রাতও করেন অনেকে। এর ফলে গরিব জনগোষ্ঠী ভালো খাবার পায় ও উপকৃত হয়। আর পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শবে বরাত উপলক্ষে বানানো খাবার–দাবারের বিনিময় পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।

তবে দুঃখজনকভাবে শবে বরাতের রাতে পটকা ফোটানো ও আতশবাজি একটি রীতিতে পরিনত হয়েছে । দিনটি নিয়ে আলেমদের মাঝে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। অনেকে বলেন এটি পালন করা বিদয়াত। তাদের মতে ,শব ফারসি শব্দ। অর্থ রাত বা রজনী। বরাত শব্দটিও মূলে ফারসি। অর্থ ভাগ্য। দু’শব্দের একত্রে অর্থ হবে, ভাগ্য-রজনী। বরাত শব্দটি আরবি ভেবে অনেকেই ভুল করে থাকেন। কারণ বরাত বলতে আরবি ভাষায় কোন শব্দ নেই। যদি বরাত শব্দটি আরবি বা’রাআত শব্দের অপভ্রংশ ধরা হয় তবে তার অর্থ হবে— সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুক্তিকরণ।

তবে কিছু কিছু আলেম ভিন্নমত পোষণ করলেও অধিকাংশ আলেমদের মতে এই দিনটি পালন করা জায়েয এবং এটির তাৎপর্য অনেক। তাদের দলিল হচ্ছে, শবে বরাতের অস্তিত্ব প্রমাণে বিভিন্ন সহীহ হাদীস বিদ্যমান। কতিপয় জয়ীফ হাদীসও রয়েছে। একাধিক সনদে জয়ীফ হাদীস সমূহ বর্ণিত হওয়ায় তা হাসান হাদীস রূপে পরিগণিত। মন রাখতে হবে বিতর্কিত ও দুর্বল (জয়ীফ) হাদীসের সংখ্যা বেশী হলেও কিছু সংখ্যক সহীহ হাদীসও রয়েছে বিধায় এ রাতের অস্তিত্ব অস্বীকার করার কোনো সুয়োগ নেই।

কুরআন মজীদে ব্যবহৃত “লাইলাতুল মোবারাকাহ” বাক্যাংশটি অনেকে ”শবে বরাত” উল্লেখ করেন। এই আয়াতখানা সূরা দুখানে এভাবে এসেছে, “আমরা এই কুরআনকে এক মহিমাময় (বরকতময়) রাতে নাজিল করেছি। আমরা অবশ্যই সতর্কদানকারি। আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (৪৪:৩)।

শবে বরাত সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমাকে বলেছেন, আপনি আপনার উম্মতদের জানিয়ে দিন, তারা যেন শবে বরাত রাতকে জীবিত রাখে।’ অর্থাৎ তারা যেন ইবাদতের মধ্যে কাটিয়ে দেয়। প্রত্যেক মুসলমানের নিজেকে গুনাহমুক্ত করার এ এক অপূর্ব সুযোগ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাই আজ সারা রাত ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

শবে বরাতে আতশবাজি, পটকা ফুটানো, মসজিদ, দোকান ও অফিসে আলোকসজ্জা, কবরস্থানে পুস্প অর্পণ, আলোকসজ্জা ও নারী পুরুষের সম্মিলিত যিয়ারত, অযাচিত আনন্দ উল্লাস, বেহুদা কথাবার্তা, ইবাদত-বন্দেগী বাদ দিয়ে অযথা ঘোরাঘুরি ও সেলফি এবং হালুয়া, রুটি বা খানাপিনার পিছনে বেশি সময় নষ্ট করে ইবাদত থেকে বিরত থাকা অবশ্যই নিন্দনীয়। এগুলো শয়তানী কুমন্ত্রণা বৈ কিছুই নয়। কাজেই এ কাজগুলো থেকে বিরত থাকা একান্ত কর্তব্য। 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শবে বরাতের নামে দুনিয়ার যাবতীয় ফেতনা ও সীমালঙ্ঘন থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। মসজিদে মসজিদে ইলমে দ্বীনের মজলিস, কিয়ামুল লাইল এবং পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারতসহ কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ