জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্ব

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:২০:২৬ || পরিবর্তিত: ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:২০:২৬

সারাবিশ্ব জুড়েই প্রায় সবগুলো রাষ্ট্রই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন ব্যতিক্রম। এই সময় তারা ব্যস্ত রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করতে। যুক্তরাষ্ট্রের অসহযোগিতায় প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির একগুঁয়েমির কারণে বশ্বের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সুবিশাল ১ লাখ কোটি ডলার। ফরেন পলিসি।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র। এটিকে বলা হয়, বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্খী জলবায়ু চুক্তি। এটি স্বাক্ষর করে ওবামা বলেছিলেন, এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় যুক্তরাষ্ট্র পরিণত হবে জলবায়ু পরিবর্তনরোধঅ বিশ্ব নেতায়। ওবামার এই ঘোষণা বাস্তবে পরিণত হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু এই চুক্তিকে অবহেলা করেছেন তাইই নয়, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিই অস্বীকার করছেন! ওবামার যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিলো ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মার্কিন কার্বন নিঃসরণ ২৬ শতাংশ কমাতে। আর ট্রাম্প চান দেশটিকে যথেচ্ছ কার্বন নিঃসরণ এর অধিকার দেওয়া হোক!

গত ৩ দশকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ৩টি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছে। ১৯৯২ সালে রিও ডি জিনারিও, ১৯৯৭ সালে কিয়োটোতে, ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে এবং ২০১৫ সালে প্যারিসে। কিন্তু তাদের কার্বন নিঃসরণ কমেনি। বরং চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিশ্রুতি কার্বনের চেয়ে ২ হাজার কোটি টন বেশি কার্বন নিঃসরণ করেছে দেশটি। ২৫ সাল নাগাদ আরো ৫০০ টন অতিরিক্ত কার্বণ যোগ হবে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই অতিরিক্ত নিঃসরিত কার্বনের পরিমান হবে আড়াই হাজার কোটি টন। গতবছর ভারত, চীন এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন সম্মিলিত ভাবেও এতো কার্বন নিঃসরণ করেনি। প্রতি টন কার্বন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৪২ ডলার ক্ষতি করে। সে হিসেবে এই অতিরিক্ত কার্বন বিশ^ অর্থনীতির অতিরিক্ত ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি করে।

প্রজন্মনিউজ২৪/দেলাওয়ার হোসাইন ।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন