বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল!

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৫৯:১২

দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ডে শুরু হবে ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সম্ভাব্য সব ধরনের পাশাপাশি  টুপ্রস্তুতি নেওয়ার র্নামেন্টের দলগুলো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডও প্রায় গুছিয়ে ফেলেছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। এরপর থেকেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উত্তরণ ঘটিয়ে নিজেদের বিশ্বক্রিকেটের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে টাইগাররা। এবারও দেশবাসীর বিপুল প্রত্যাশা ও দেশসেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে বাংলাদেশ দল। আগামী ১৮ এপ্রিল দল ঘোষণা হতে পারে। লাল-সবুজের দলের হয়ে কে কে যেতে পারেন বিশ্বকাপে, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।      

বিশ্বকাপে অবধারিতভাবেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত এই তারকা ক্যারিয়ারের একেবারে শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। গত বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ এবারের আসর দিয়ে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারেন, এমন আলোচনা রয়েছে ক্রিকেটাঙ্গনে। নিজের শেষ বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে উন্মুখ থাকবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সফলতম এই অধিনায়ক।

এবার দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বকাপ দলের সেনাপতি মাশরাফির সঙ্গে আর কে কে থাকবেন সৈনিকের ভূমিকায়। ব্যাটিং অর্ডারে অভিজ্ঞ তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনার হিসেবে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রথম পছন্দ লিটন দাস। বাঁহাতি সুপারস্টার ব্যাটসম্যান তামিমের সঙ্গে লিটনের জুটিটা ওপেনিংয়ে কৌশলগত ভারসাম্য এনে দেয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে ধারাবাহিকতার অভাব থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের জানান দিতে শুরু করেছেন এই স্ট্রোকমেকার। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালের সেঞ্চুরিটা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তা ছাড়া মুশফিকের পাশাপাশি ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক হিসেবেও লিটনই প্রথম পছন্দ।

ব্যাটিং অর্ডারের পরের জায়গাগুলোতে সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমানের সুযোগ পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। গত এশিয়া কাপের দলে সুযোগ পেয়ে মিডলঅর্ডারে দারুণ খেলেছেন মিঠুন। শৃঙ্খলাজনিত কারণে নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাব্বিরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলে ফিরে সেঞ্চুরি স্কোরসহ দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। এদের মধ্যে সৌম্য সরকারের ফর্মহীনতা ও মাহমুদউল্লাহর ইনজুরি নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে সৌম্যর মিডিয়াম পেস বোলিং করার সামর্থ্য আর ইংলিশ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় দলে টিকে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। বড় ধরনের কিছু না ঘটলে শেষ পর্যন্ত গত দুই বছরে দলের হয়ে নিয়মিত খেলা এই ব্যাটসম্যানদেরই দেখা যাবে বিশ্বকাপে।

দলে অলরাউন্ডার হিসেবে সবার আগে থাকবে সাকিব আল হাসানের নাম। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার ইনজুরি কাটিয়ে সম্প্রতি আইপিএল দিয়ে মাঠে ফিরেছেন। বিশ্বকাপে মাশরাফির ডেপুটির দায়িত্বেও সম্ভবত তাঁকেই দেখা যাবে। ইংলিশ কন্ডিশন বিবেচনায় পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল মোহাম্মদ

সাইফুদ্দিনের সুযোগ পাওয়াটাও প্রায় নিশ্চিত। তবে কিছুটা ইনজুরি সমস্যা রয়েছে তরুণ এই অলরাউন্ডারের।  ইনজুরিতে ভুগছেন অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা, দ্রুত চোট থেকে মুক্তি পেয়ে সাকিবের সঙ্গে ব্যাটে-বলে সব্যসাচী ভূমিকা রাখবেন এই দুই তরুণ।

বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন অধিনায়ক মাশরাফি নিজেই। পেস সহায়ক ইংলিশ কন্ডিশনে অন্তত চার পেসার নিয়ে স্কোয়াড সাজাবে বাংলাদেশ দল। সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনের পাশাপাশি  চতুর্থ পেসার হিসেবে কে থাকবেন সেটা নিয়েই যত জল্পনা-কল্পনা। ডানহাতি দ্রুতগতির পেসার তাসকিন আহমেদ ইনজুরি কাটিয়ে মাত্রই বল করা শুরু করেছেন। নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলে আসা ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদের ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাই নেই। তাই কপাল খুলে যেতে পারে আবু জায়েদ রাহির। ইংলিশ কন্ডিশনে রাহির সুইং বোলিংটা চমক হয়ে আসতে পারে।

এদের বাইরে একজন ব্যাটসম্যান ও ব্যাট চালাতে জানেন এমন একজন বাড়তি স্পিন বোলার নিয়ে চূড়ান্ত দল সাজাতে পারে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডের এই আধুনিক কালে সচরাচর বড় স্কোরের ম্যাচ হয়ে থাকে। এমনকি ইংল্যান্ডেও প্রায় প্রতি ম্যাচেই তিনশোর উপরে রান উঠছে। তাই বড় রান তাড়া করা বা দ্রুত রান তোলার বিবেচনা থেকে চমক হয়ে বাংলাদেশ দলে ঢুকে যেতে পারেন বিপিএল দিয়ে আলোচনায় আসা ডানহাতি ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী।

বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে অনবদ্য পারফর্ম করার পর চলতি প্রিমিয়ার লিগেও অসাধারণ কিছু ইনিংস খেলেছেন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী। তবে প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফর্ম করা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও আছেন নির্বাচকদের রাডারে। অন্যদিকে, স্পিনার হিসেবে আলোচনায় আছেন বাঁহাতি নাজমুল ইসলাম অপু এবং নিউজিল্যান্ড সফরে দলে সুযোগ পাওয়া ডানহাতি অফস্পিনার নাঈম হাসান। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষ দলগুলোর শক্তিমত্তা বিবেচনা করে ডানহাতি ও বাঁহাতি বোলার মিলিয়ে বোলিং আক্রমণের সঠিক ভারসাম্যের হিসাব-নিকাশে চূড়ান্ত দলে কে সুযোগ পান, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রজন্মনিউজ২৪/দেলাওয়ার হোসাইন।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ