বর্ষা আতঙ্কে রাজধানীবাসী

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০১৯ ০৫:২০:০১

এম এ মামুন, স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় রাজধানীবাসী। সঙ্গে ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আর এ সম্যসার মূল কারণ হচ্ছে খাল ও ড্রেনগুলো বর্জ্যমুক্ত করতে না পারা। তাই রাজধানীবাসী মনে করেন এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের দূর্ভোগ কমবে না।

সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় রাজধানীর প্রায় সব এলাকায়। মূল সড়ক বা উঁচু জায়গা থেকে অল্প সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হলেও তুলনামূলক নিচু স্থানে বৃষ্টি মানেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

সরেজমিন দেখা গেছে,গত কয়েক দিন আগে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় দক্ষিণ ঢাকার পান্থপথ থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত।বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে দোকান-পাটের মধ্যে এতে দূর্ভোগে পড়েন ক্রেতা-বেক্রেতা উভয়ই। ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

এ বছরও বর্ষার আতঙ্কে রয়েছেন নগরবাসী। তাই সিটি করপোরেশন বা ওয়াসার পদক্ষেপের বাইরেও নিজস্ব উদ্যোগে চলছে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো মূল বর্ষার আগে শেষ না হলে দুর্ভোগে পড়বে রাজধানীবাসী। আর এসব উদ্যোগ জলাবদ্ধতা কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব থাকা সংস্থাগুলো প্রতিবছর কয়েক শ কোটি টাকা খরচ করেছে। মূলত নর্দমা নির্মাণ ও মেরামত, খাল, বক্স কালভার্ট খনন ও পরিষ্কারের কাজে এই টাকা ব্যয় হয়। অর্থ খরচ হলেও রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমছে না।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের। এ বছর জলাবদ্ধতা কমাতে ওয়াসার কাজ এখনো শেষ হয়নি। কোনো কোনো এলাকায় সিটি করপোরেশনের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু খাল পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি। জলাবদ্ধতা কমাতে ওয়াসা যে ব্যয় করে, তার একটি অংশ আসে ওয়াসার নিজস্ব বাজেট থেকে; বাকি অংশ দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, গত বর্ষার আগে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ওয়াসার বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি টাকা এবং মন্ত্রণালয় দিয়েছিল সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। গত বছর বর্ষায় ব্যাপক জনভোগান্তির পরও এই খাতে বরাদ্দ বাড়েনি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত বছর বেশি জলাবদ্ধতা হয়েছে এমন কিছু এলাকা চিহ্নিত করেছে। সেসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পানিনিষ্কাশনের নালা নির্মাণ শুরু করেছে। তবে বর্ষার আগে এসব উন্নয়নকাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা প্রধান প্রকৌশলী জানান, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, ওয়াসাসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপে আপাতত দুর্ভোগ কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয়ার দাবি রাজধানীবাসীর।

প্রজন্মনিউজ২৪/

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ