চট্টগ্রামে বিএমএ নির্বাচন নিয়ে স্বাচিপ দুই ভাগ!

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর, ২০১৬ ০৪:৪২:১৪

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চট্টগ্রাম শাখা স্পষ্টতই দুই ভাগ হয়ে গেছে। বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন) চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচনে স্বাচিপ থেকে দুটি প্যানেল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে নির্বাচন নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী ২২ ডিসেম্বর বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচনে ভোটার ৪ হাজার ৪৪২ জন। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে নির্বাচন হবে।

নির্বাচনে স্বাচিপের দুটি প্যানেলের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএমএ চট্টগ্রামের বর্তমান সভাপতি মুজিবুল হক খান ও যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী। তাঁরা দুজন এবার একটি প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মুজিবুল হক স্বাচিপ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক এবং ফয়সাল ইকবাল চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক। এই প্যানেলের নেতারা চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অপর প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাচিপের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি শেখ শফিউল আজম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বাচিপ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ন ম মিনহাজুর রহমান। অবশ্য তাঁরা তিনজনই সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই প্যানেলের নেতারা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

মিনহাজুর রহমান বলেন, কৌশলগত কারণে তাঁদের প্যানেল থেকে তিনজন সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে পরামর্শ করেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অবশ্য চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বাচিপ দুটি প্যানেল যে জমা দিয়েছে, সেটা আমার জানা নেই। আমার সঙ্গে কেউ আলাপ করেনি।

২০১২ সালে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচনে মিনহাজুর রহমান স্বাচিপের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন। প্রথম ভোট গণনায় তিনি ১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। পরে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পক্ষে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফকে ১ ভোটে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

গতবার একটি পদে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এবার স্বাচিপ থেকেই দুটি প্যানেল নির্বাচন করছে। এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের কোনো প্যানেল নেই।
বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি খুরশিদ জামিল বলেন, এটা একটা তামাশার নির্বাচন হবে। গতবারের চেয়েও বেশি কারচুপির ঘটনা ঘটবে। এ ধরনের নির্বাচনের বৈধতা দিতে চাই না আমরা। কেন্দ্র কিংবা কোথাও আমরা নির্বাচন করছি না।

স্বাচিপ থেকেই দুটি প্যানেল থাকায় নির্বাচন নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা বেশি। তাঁদের কেউ কেউ ভোটের দিন সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছেন।
তবে সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্বাচিপের এক পক্ষের হয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে দাঁড়ানো ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।

প্রজন্মনিউজ২৪/কে এম এল

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ