সড়কে  মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে

প্রকাশিত: ২১ মার্চ, ২০১৯ ০৪:২১:৫৫

এম এ মামুন হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। সবশেষ শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর নিহত হওয়ার ঘটনায়, আবারো প্রশ্ন উঠেছে- সড়ক দূর্ঘটনার দায় কার? গত মঙ্গলবার রাজধানীর নদ্দায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস চাপায় নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী।

এ ঘটনা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আবারো চাঙ্গা হয়- নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা শুধু নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনই করেনি, তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে আইন মেনে চলতে হয়। কিন্তু কর্তা ব্যক্তিরা চোখ থাকতেও অন্ধের ভূমিকায় অভিনয় করে চলেছেন, যার ফলে সড়কে হরহামেশাই মানুষ মারা যাচ্ছে।

বিভিন্ন যানবাহনে একটি বহুল প্রচারিত বিজ্ঞাপন দেখা যায় যে, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। অনেক সময় একটি দুর্ঘটনা বহু পরিবারের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত এক বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই আমরা বুঝতে পারবো যে, সড়ক দুর্ঘটনা কতটা মারাত্মক ধারণ করছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১৮ সালে সারা দেশে তিন হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় চার হাজার ৪৩৯ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন এ তথ্য জানিয়েছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ আনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ২০১৮ সালে সড়কে পাঁচ হাজার ৫১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন সাত হাজার ২২১ জন। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ছয় হাজার ৪৮টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাত হাজার ৭৯৬ জন। আহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮০। লিখিত বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৩৯ জন নিহত এবং সাত হাজার ৪২৫ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির পর ৭৪০ জন মারা গেছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,ছয়টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, শাখা সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন, টেলিভিশন ও অনলাইন পত্রিকার প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে সারাদেশে ৩ হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪ হাজার ৪৩৯ জনের প্রাণ গেছে, আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৪২৫ জন।

নিহতদের মধ্যে ৪২ শতাংশ গাড়ি চাপায়, ২৪ শতাংশ দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৭ শতাংশ গাড়ি উল্টে, এবং ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি খাদে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় যাদের প্রাণ গেছে, তাদের মধ্যে ৫৬৬ জনই চালক। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১৬০ জন। এছাড়া ৬৪ জন বাসচালক ও ৫৯ জন ট্রাক চালক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

পুরা বছরের মধ্যে দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে জুন মাসে, ৩৮১ জন; আর সবচেয়ে কম নভেম্বরে, ২৪৫ জন। ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায়। ৩৩৯টি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৪৬ জনের। এভাবে প্রতিদিন সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে।

তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু চালক ও যাত্রীকে সচেতন হলে হবে না, পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঝেমধ্যে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করেই দায়িত্ব শেষ করেন। কিন্তু এই সচেতনতার কাজটি জারি রাখতে হবে সারা বছর, সারাক্ষণই। কারও সামান্য অসচেতনতায় যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। সবাইকে আইন মানাতে বাধ্য করতে হবে। 

প্রজন্মনিউজ২৪/

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ