হাসপাতালের অব্যবস্থাপনাই সুচিকিৎসায় অন্তরায়

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০১৯ ০৫:০১:৩৫

এম এ মামুন হাসান,স্টাফ রিপোর্টার:  বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে চিকিৎসা সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণার পর দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বাংলাদেশে ষাট শতাংশের বেশি মানুষ বছরে বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে থাকেন।

কিন্তু সেখানেও বাণিজ্যিক মুনাফাই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।দেশের সবগুলো সরকারী হাসপাতাল একপ্রকার জিম্মি দালালচক্র আর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কাছে। সেই সাথে সেবা প্রদানে ডাক্তারদের অবহেলা, অর্থের লোভ আর উপর্যুক্ত সেবা প্রদানে পর্যাপ্ত সময় প্রদানের ব্যর্থতা তো আছেই।

দেশের সবগুলো সরকারী হাসপাতালে পা দেওয়ার পর থেকেই যে কোন রোগীকেই পড়তে হয় দালালচক্রের হাতে। এসব দালাল চক্রের কেউই হাসপাতালের কোন স্টাফ নয়। তারপরও রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসার যাবতীয় কাজই টাকার বিনিময়ে তারাই করে দেয় রোগীদের। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই রোগীদের পকেট থেকে খসাতে হয়। হাসপাতালের বেড পাওয়া, লিফটে ওঠা, ট্রলি পাওয়া, খাবার পাওয়া, যে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা সহ যাবতীয় কাজের জন্য রোগীদের গুণতে হয় অতিরিক্ত অর্থ।

আর দালালদের সাথে জড়িত রয়েছে উক্ত হাসপাতালের  চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররাও এসব কাজের সাথে জড়িত থাকে। যে কারণে তাদের কোনো কাজে বেগ পেতে হয়না, খুব সহজেই সব কাজ করতে পারে। হাসপাতালের প্রতিটি জায়গাতেই চলছে দালালের আধিপত্য। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে কেবিন, ওয়ার্ড, প্যাথলজি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটারসহ বহির্বিভাগ পর্যন্ত দালালসিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। টাকা ছাড়া কোনো রোগী এদের কাছ থেকে ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছেন না।

এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার কথা বলে প্রাইভেট ক্লিনিকে বাগিয়ে নেয়ার কমিশন ব্যবসায় তো রয়েছেই। ফলে দালালদের দৌরাত্ম্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে গোটা দেশের রোগীরা। এসব কারণে অনেকের কাছে হাসপাতালকে  কসাইখানা বলে মনে হয।  কারণ এখানে টাকা ছাড়া একপাও চলা যায় না। টাকা ছাড়া আয়া বয় কোন কাজ করেনা। স্যালাইন লাগানো থেকে শুরু করে যাবতীয় পরীক্ষার রক্ত নিতে আয়াদের ২শ থেকে ৩শ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার লিফটে রোগী নিয়ে উঠতে গেলেও লিফটম্যানকে ১০ টাকা দিতে হয়।’

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগী পরিবহণ থেকে শুরু করে,রোগীর যাবতীয় কাজ করতে হয় রোগীর স্বজনদেরই, এসব কাজের জন্য ওয়ার্ড বয়দেরও পাওয়া যায় না। হাসপাতালের নার্স আর ওয়ার্ডবয়দের ক্ষমতা চরমে, যার প্রভাবে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা, ব্যহত হচ্ছে রুগীদের অধিকারটুকু। হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীদের মতে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে কিছু অসৎ চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, প্যাথলোজিস্ট, নার্স ও তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী জড়িত। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ চরম খারাপ।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চারিদিকে নোংরা-আবর্জনা, হাসপাতালের ভেতরে কুকুর আর বিড়ালের চলাচল সর্বত্র। হাসপাতালের বেডগুলোরও বেহালদশা। দীর্ঘদিন পরিষ্কারের অভাবে হাসপাতালের বাথরুমগুলো চরম নোংরা যা একজন সুস্থ মানুষের পক্ষেই ব্যবহার করা কঠিন।এমনকি বাথরুমের জানালা দরজাও ঠিকমতো বন্ধ হয়না। ফলে কেউ একজন বাথরুমে গেলে গেটের সামনে তার স্বজনদের আরও একজনকে দাড়িয়ে থাকতে হয়। হাসপাতালের টয়লেটের পাশেই রাখা আবর্জনার স্তূপ। চরম নোংরা আর দুর্গন্ধে পরিণত হয়েছে হাসপাতাল।

সরকারী হাসপাতালের অবস্থা দেখলে মনে হয রক্ষণাবেক্ষনের কেউ নাই । কিন্তু এসব হাসপাতালের জন্য সরকার প্রত্যেক বছর প্রচুর টাকা ব্যায় করেন।যেন রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো রকম সম্যসা না হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এই যে, সরকারের দেওয়া টাকা হাসপাতালে পৈাঁছাতে পৈাঁছাতেই প্রায় শেষ হয়ে যায়।

আর তাই, সরকারকে এ সকল সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং জনগণকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন সর্বসাধারণ।

প্রজন্মনিউজ২৪/

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন