উন্নয়নের বিস্ময় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০১৯ ০৪:৫৯:৫২

এম এ মামুন হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: নতুন বছরে বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর অপেক্ষা করছে। বছরটি অর্থনীতি ও সামাজিকভাবে বড় একটি উত্তরণের আনন্দের উপলক্ষ হতে পারে। সেটি হলো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের দিকে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার জন্য আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করবে এই বছরেই। জাতিসংঘের মূল্যায়নেই এটা হবে। তবে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে প্রত্যেকটি খাতে যেমন বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, আইসিটিসহ প্রতিটি খাতে যথাযথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নকে গতিশীল করছে।

বিদ্যুৎ খাতে সফলতা: ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৯৩১ মেগাওয়াট। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট।বেশ কিছু নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প অচিরেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং বিদ্যুৎ সমস্যা থাববে না আশা করা যায়।

শিক্ষাক্ষেত্রে সফলতা:বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সাফল্য এনেছে। বছরের প্রথম দিনে সকল প্রাইমারি, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় বিনামূল্যে বই বিতরণ সারা বিশ্বে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

সরকার দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করেছে। ছাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা তহবিল গঠন করে স্নাতক পর্যন্ত উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে দেশে ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

যোগাযোগ খাতে সফলতা: সড়ক যোগাযোগ সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড, বিআরটিসি, বিআরটিএ এবং সেতু বিভাগের মাধ্যমে দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিস্তা সেতু, বরিশালে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সুলতানা কামাল সেতু, শাহ আমানত শাহ সেতু, শহীদবুদ্ধিজীবী সেতু, বান্দরবানে রুমা ও থানচি সেতু, রংপুরে যমুনেশ্বরী সেতুসহ আরো বেশ কয়েকটি সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

মিরপুর থেকে সেনানিবাসের ওপর দিয়ে বিমানবন্দর সড়কে ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, মগবাজার ফ্লাইওভার ও বনানী রেলক্রসিংয়ের ওভারপাস নির্মাণ এই সরকারের একটি বড় সাফল্য। যা যানজট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

স্বাস্থ্য খাতে সফলতা: স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর মান উন্নয়নেও জোর দিয়েছে সরকার।মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুহার অনেক হ্রাস পেয়েছে। গড় আয়ু ৭০.৭ বছর হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। ১২৭৭৯ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালের সংখ্যা ১৬৮৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০১টি। ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাাপন করা হয়েছে।

নিজস্ব অর্থয়নে পদ্মা সেতু: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের আশা আকাক্সক্ষা আর স্বপ্ন পদ্মা সেতু। যা বার বার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয়েছে ৬.১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ পদ্মা সেতু। যার প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।

পরিশেষে বলছি, সফলতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে আমাদের জনগণকে জানাতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে জনসাধারণের কাছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে পৃথিবীর অন্যান্য বড় বড় দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের যোগ্যতার জানান দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমাদের ছোট্ট এই দেশকে পৃথিবীর বুকে বারবার করেছে সম্মানিত। সরকারের উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং হাতে হাত রেখে কাজ করে যেতে হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/

 

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ