দেশের চলচিত্র অঙ্গনের বেহাল দশা

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০১৯ ০৩:৫৬:৩৮

এম এ মামুন হাসান,স্টাফ রিপোর্টার:  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবের।কোন একটা জাতির সংস্কৃতির পরিচয় নাকি পাওয়া যায় তার শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ইত্যাদি দেখে। আমার মতে, বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্য বেশ উচুমানের।

বাংলাদেশের নাটকও ফেলে দেয়ার মত কিছু নয়, বিশেষ করে মঞ্চ নাটকের মান তো খুব, খুব ভালো। তার মানে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের দেশে গুণী কাহিনীকার, অভিনেতার অভাব নেই। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের সিনেমার এই বেহাল দশা।

নব্বই দশকের শেষের দিকে অশ্লীলতার ভূত এসে ভর করে এদেশের চলচ্চিত্রে। এরপর থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের শক্ত অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। ধীরে ধীরে হলবিমুখ হয় দর্শক।

পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারিভাবে ৩ এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে এই দিনটিতে বর্ণিল আয়োজনে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করে বিএফডিসি।

 দিবসটিতে নানা আয়োজন থাকলেও দুঃখজনক হলো বিনোদনের সবচেয়ে বড় এ মাধ্যমটি এখনও অবহেলিত।

বিশ্বে যখন ডিজিটাল সিনেমা নির্মাণ করা হচ্ছে তখনো বাংলাদেশে থার্টি ফাইভে সিনেমা নির্মাণ হয়। নেট দুনিয়ার মাধ্যমে অবাধ আকাশপথ খোলা থাকায় দর্শক খুব সহজেই বিশ্বের বিভিন্ন সিনেমা অনায়াসে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

এ কারণে ঢাকাই চলচ্চিত্রের থার্টি ফাইভে সিনেমা দেখতে একদমই অভ্যস্ত নন এ দেশের দর্শক। দর্শকশূন্য প্রেক্ষাগৃহ থাকায় একের পর এক হল বন্ধ হতে শুরু করে। ১৪০০ প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে এখন প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে মাত্র ৩৩০টি।

চলচ্চিত্র শিল্পের এ বেহাল দশায় বিশ্বমানের চলচ্চিত্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে বর্তমান সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অ্যানালগ যুগ ছেড়ে ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) ঢেলে সাজানো হচ্ছে। অ্যানালগ যন্ত্রপাতিকে ডিজিটালে রূপান্তর করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে লাইট, ক্যামেরাসহ ডাবিং, এডিটিং ও কালার মিক্সের যন্ত্রপাতির অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি এগুলোকে ডিজিটাল করা হয়েছে।

বিএফডিসির জন্য পাঁচটি ডিজিটাল এডিটিং প্যানেল, একটি কালার গ্রেডিং মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। এগুলো পুরাতন শব্দ ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে। তা ছাড়া আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। কালার দেখার জন্য বড় পর্দার প্রজেক্টর স্থাপন করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ সিনেমা মুক্তির জন্য কন্ট্রোল প্যানেল চালুর পরিকল্পনা করছে। ৩টি ডাবিং, মিক্সিং ও রি-রেকর্ডিং মেশিন বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে শব্দ গ্রহণের যাবতীয় কাজ করা যাবে। ৫টি সনি এফ-৫৫ ক্যামেরা ও একটি রেড ক্যামেরাও রয়েছে। ১৭ ইঞ্চি মনিটর ক্রয় করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিএফডিসিতে আরো রয়েছে দূর নিয়ন্ত্রণযোগ্য ৪০ ফুটের সর্বাধুনিক দুটি জিমিজিব, ২০ ফুট ট্রলি, যা ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরানো যায়। এসি-ডিসি দুটোই আছে, যে কারণে পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে। একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণের সব যন্ত্রপাতির সুবিধা এফডিসিতে রয়েছে।

তারপরও বিএফডিসিতে প্রাণচাঞ্চল্য আগের মতো নেই। শুটিং স্পটে জমাট ময়লা পড়ে আছে। চলাচলের রাস্তায় টিভি চ্যানেলের যন্ত্রাংশ রাখা হয়েছে। সিনেমার বদলে বিএফডিসিতে এখন দেখা যায় বেসরকারি টিভি চ্যানেলের নাটক নির্মাণের দৃশ্য।

এদিকে, আকাশ সংষ্কৃতির এ যুগে ভিনদেশি চ্যানেল, সিনেমা আর সংস্কৃতির আগ্রাসনে ঢাকাই সিনেমা দাঁড়াতে পারছে না। উচ্চপ্রযুক্তি ও বিগ বাজেটের ভিনদেশি সিনেমা এদেশে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ফলে দর্শকও দিন দিন স্বার্থপরের মত দেশের শিল্পী ও কলাকুশলীদের ভুলে সেদিকেই ঝুঁকে পড়ছেন।

এভাবে চলতে থাকলে ঢাকাই সিনেমার অবস্থা সামনে কী হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে আমাদের প্রত্যাশা,  হলিউড, বলিউড, টালিউড সিনেমাকে পরোয়া না করে আবারও নতুন কোনো সিনেমা নির্মাণে উদ্যোগী হবেন কেউ।তবেই ঢাকার চলচ্চিত্র ফিরে পাবে প্রাণ। দর্শকমহলে সৃষ্টি হবে নতুন আগ্রহ। ফিরে আসবে চলচ্চিত্রের সোনালী অধ্যায়।

প্রজন্মনিউজ২৪/

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন