তীব্র যানযটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী

প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০১৯ ০৫:৩৫:৩২ || পরিবর্তিত: ১২ মার্চ, ২০১৯ ০৫:৩৫:৩২

এম মামুন হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: তীব্র যানযটের কবলে পড়ে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। জনতার দূর্ভোগের পাশাপাশি থমকে যাচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা। যানজট সমস্যা দুরীকরণে সরকারকে  সতর্ক হওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার তাগিদ বিশেষজ্ঞ মহলের।

রাজধানীতে যানজট শব্দটি অতি পরিচিত ও যন্ত্রণাদায়ক। দেশের প্রায় জেলা শহর গুলোতেও ‍যানযট অরিচিত নয়। ঢাকায় দুর্বিষহ যানজট সমস্যা প্রতিনিয়ত তীব্রতর হচ্ছে। শহরের কর্মব্যাস্ত মানুষগুলো যানযট মাথায রেখেই করতে হয় নিত্য দিনের কাজ।

যানজটের কবলে পড়ে প্রায়ই রোগীর আর পৌঁচানো হয় না হাসপাতালে। অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের দরজায় পৌঁছার পূর্বেই রুগি মারা যাওয়ার সংবাদ আর নতুন কি।

যোগাযোগ ব্যবস্থায়া সরকারের নানা মুখি প্রদক্ষেপ প্রসংসিত হচ্ছে সব মহলের কাছে। সড়ক পথের পাশাশি মেট্ররেল আনবে এক নতুন মাত্রা। নির্মাণ কাজ চলতে থাকায় ‍রাজধানীর মিরপুর,আসাদগে,কারওয়ান বাজারের মত ব্যাস্ততম এলাকায় যানযট নিত্যদিনের বিষয়। শত সিমাবদ্ধতার মাযেও রয়েছে উপযুক্ত সমাধান। তার পূর্বে সমষ্যাগুলোকে পর্যালোচনা করা প্রযোজন।

প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম:  যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জাতীয় সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ”একটি আধুনিক নগরীতে মোট আয়তনের ২০ থেকে ২৫ ভাগ রাস্তা বা সড়ক থাকা প্রয়োজন৷ কিন্তু ঢাকায় আছে মাত্র সাত থেকে আটভাগ”৷তার  মানে, প্রয়োজনের মাত্র এক তৃতীয়াংশ সড়ক আছে রাজধানী ঢাকায়৷ শহরের মোট এলাকা ১৩৫৩ বর্গ কিলোমিটার, বর্তমান রাস্তার আয়তন ২,২০০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২১০ কিলোমিটার প্রধান সড়ক৷

১৫ ভাগ যাত্রীর দখলে ৭০ ভাগ সড়ক:  আরেকটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়,  ঢাকায় ১৫ ভাগ যাত্রী দখল করে আছেন মোট সড়কের ৭০ ভাগ৷ কীভাবে? স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা এসটিপি-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় কম-বেশি ১৫ ভাগ যাত্রী প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন, দিন-দিনি  যা আরো বাড়ছে। এই প্রাইভেট কারের দখলে থাকে ৭০ ভাগেরও বেশি রাস্তা৷ বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী অন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন৷ অর্থাৎ তারা গণপরিবহন সড়কের মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা ব্যবহারের সুযোগ পান৷

রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএ-র হিসাব অনুয়ায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ৯ লাখ ১৩ হাজার ৬২২টি নিবন্ধিত মোটরযান রয়েছে৷ এর মধ্যে বাস ২৩ হাজার ১১৯টি এবং মিনিবাস ১০ হাজার ৭টি৷ অন্যদিকে প্রাইভেট কার রয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭২২টি৷

শহরের মধ্যে রেল ক্রসিং, ভিআইপি  মুভমেন্ট:  শহরের মধ্য রেল ক্রসিং যানযটের আরেক উল্লেখযোগ্য কারণ। ঢাকা শহরের ভেতর দিয়ে রেল লাইন যাওয়ার ফলে ১৭টি পয়েন্টে রাস্তা বন্ধ করে ট্রেন যাওয়ার ব্যবস্থা করায়, তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়৷ এ সব পয়েন্টে দিনে কমপক্ষে ১০ বার যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়৷ এরসঙ্গে আছে ভিআইপি মুভমেন্টো৷ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদদের মুভমেন্টের সময় দীর্ঘক্ষণ কিছু কিছু সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে শুধু তাঁদের চলাচলের সুযোগ করে দেয়া হয়৷ স্বাভাবিকভাবেই তখন পার্শ্ববর্তী সড়ক কগুলোতে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট৷

যানজটের ক্ষতি:  যানজট ঢাকাবাসীর জীবনের গতিই শুধু স্লথ করে দেয়নি, বিপুল পরিমাণ অর্থনেতিক ক্ষতিও করছে৷ ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্য এবং মানসিক অবস্থারো৷ বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট বা বিওআই-র গবেষণায় বলা হয়েছে, যানজটের কারণে বাংলাদেশে বছরে যে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, তার মূল্য ৪৩ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা৷

এছাড়া উৎপাদন খাতে আর্থিক ক্ষতি ৩০ হাজার ৬৮২ কোটি, স্বাস্থ্যগত ২১ হাজার ৯১৮ কোটি, জ্বালানি ও যানবাহন মেরামত বাবদ ১ হাজার ৩৯৩ কোটি এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতি ১৫৪ কোটি টাকা৷ সব মিলিয়ে বছরে যানজটের কারণে বার্ষিক ক্ষতির  পরিমাণ ৯৭ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা৷

সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অনেক সংস্থার অংশীদারিত্বের কারণে এ শহরের অবকাঠামো ও সেবা খাতের উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে।  শহরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রচুর,  তবে তা অর্জনে সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরী।

অবৈধ গাড়ি পার্কিং,ফুটপাত দখল করে রাস্তা সঙ্কীর্ণ করা থেকে জনগণকে বিরত রাখতে হবে। সর্বোপরি নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যানজট সমস্যা নির্মূল সম্ভব ।

প্রজন্মনিউজ২৪/দেলাওয়ার হোসাইন।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ