তামাকে বছরে আর্থিক ক্ষতি ৩১ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০১৯ ০৬:১৬:৫৩ || পরিবর্তিত: ১১ মার্চ, ২০১৯ ০৬:১৬:৫৩

এম এ মামুন হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: তামাকজনিত ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর কারণে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ। বছরে শুধু তামাক ব্যবহারে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) এক দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ২৬ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে- যা দেশের মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে শিশুসহ নানা বয়সের লোকের নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব রোগের মূল কারণ হিসেবে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে এখনই যদি তামাক জাতীয় দ্রব্য ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন না করা হয় তাহলে একদিবেক যেমন বাড়বে আর্থিক ক্ষতি অন্যদিকে বাড়বে রোগীর সংখ্যা।

তারা মনে করছেন, দেশীয় তামাকজাত দ্রব্য ও আমদানীকৃত তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার বড় একটি অংশ রাজস্ব পেলেও এর দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সরকারকে আরো বেশি বেগ পেতে হচ্ছে। তাই  শুধু রাজস্ব আহরণকে মূল বিবেচ্য না ধরে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে সাধারণ নাগনিকদের আরো সচেতন করা জরুরী।

আর্থিক ক্ষতি : আমাদের দেশে প্রতিবছর যে অগ্নিকান্ড ঘটে এবং কোটি কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদ চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা কিন্তু সিগারটের আগুন থেকেই ঘটে থাকে। এসব ঘটনার মাধ্যমে যে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কোটির ঘরে তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশেই প্রতি ৫ বছরে ধূমপায়ীর সংখ্যা বাড়ছে ৭.৫ ভাগ হারে। সরকারের নিকট বার্ষিক ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তামাকের কারণে সৃষ্ট রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এছাড়া তামাক চাষের ফলে দেশের উর্বর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এছাড়া সিগারেটের পাশাপাশ্বি গুল, জর্দা, সাধাপাতাসহ আরো বেশ কিছু তামাকজাত পণ্য প্রতিনিয়তই ক্যান্সার সৃষ্টি করছে। যার ফলে স্বাস্থ্য খাতে সরকারকে বেশি নজর ও বরাদ্দ দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যের ক্ষতি : ধূমপানে যত ক্ষতি হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং অপূরণীয় ক্ষতি হয় মানব স্বাস্থ্যের। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার গবেষণার ফলাফল এবং প্রতিবেদন থেকে তা বুঝা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে ১৩-১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ১৩ ভাগ তামাক ব্যবহার করে থাকে, যা একটি দেশের উন্নয়নের অন্তরায় বটে।

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৪-০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ছিল ৩৬.৮ শতাংশ। ২০০৯ সনে বেড়ে ৪৩.২ শতাংশে দাঁড়ায়। বিগত বছরগুলোতে আরো ২৫ লাখেরও অধিক নতুন তামাক ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তামাকের কারণে মৃত্যু অন্য সকল মৃত্যুর কারণের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবছরে ৩০ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৭ হাজার মৃত্যুবরণ করেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে প্রায় ৪ লাখ। তাদের মতে, ২০২০ সালের মধ্যে শুধু তামাক মহামারিতে এক কোটির মতো লোকের মৃত্যু হবে এবং এর মধ্যে ৭০ লাখ মারা যাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশসমূহে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে তামাক মহামারিতে এই শতাব্দীর শেষের দিকে এক’শ কোটি লোকের মৃত্যু হবে। তাদের মতে তামাক মহামারি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকারগুলো ধূমপান বন্ধে ব্যাপক উদ্যোগ না নিলে এর পরিণতি ভয়াবহ থেকে ভয়াবহ হবে।

সামাজিক ক্ষতি: তামাকের দুর্গন্ধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে কলুষিত করে। সিগারেট বা তামাকের বর্জ্য পরিবেশের জন্য অভাবনীয় ক্ষতিকর। ধূমপানের ফলে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সর্বোপরি প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিশাল ক্ষতির কারণ এই তামাক সেবন।

ধূমপান এমন একটি খারাপ অভ্যাসের নাম যার কোন কল্যাণ নেই, আছে শুধু অকল্যাণ। যাতে কোনো মঙ্গল নেই আছে শুধু অমঙ্গল।

আমাদের করণীয়ঃ তামাক ও ধূমপান বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। ধূমপানকারী ব্যক্তি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।তাই আমাদের সকলের উচিত এর বিরুদ্ধে এক হয়ে কাজ করা।এবং সকলকে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জানানো।আর এভাবে যদি আমরা জনসচেতনেতা তৈরি করতে পারি তাহলেই সম্ভব হবে এদেশকে তামাকের ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে রক্ষা করা।

সর্বোপরি এ কুঅভ্যাস ত্যাগের জন্য ধূমপায়ীদের দৃঢ় শপথ নিতে হবে। তাহলে তিনি নিজে বাঁচবেন সমাজ বাঁচবে, রক্ষা পাবে আগামী প্রজন্ম। তাই আসুন আমরা সবাই এক সুরে বলি-’ধূমপান করবো না / অকালে মরবো না’।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ