আইন ছাড়াই বড় হচ্ছে শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং

প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০১৯ ১০:৫৭:৫৬

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়ছে। দেশে ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে আমানত ও ঋণের হিসাবে দেখা গেছে এক-চতুর্থাংশই ইসলামিক ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে। এখন দেশে পুরোদমে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে আটটি ব্যাংক। এ ছাড়া ৯টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকের ১৯টি শাখা এবং ৮টি প্রচলিত ব্যাংকের ২৫ উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকিং চলছে। এসব ব্যাংক, শাখা এবং উইন্ডোতে মোট আমানতের পরিমাণ দুই লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।

 যা দেশের সব ব্যাংকের মোট আমানতের ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। একইভাবে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ছে। ইসলামি ব্যাংকিং-এ প্রসার বাড়লেও দেশে এখন পর্যন্ত ইসলামি ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য কোনো আইন নেই। ১৯৮৩ সাল থেকে দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক নামমাত্র একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেয়।

 ইসলামি ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় শরীয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযিযুল ইসলাম ইসলামিক ব্যাংকিং বিষয়ে বলেন, মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামিক ব্যাংকের ব্যাপক চাহিদা আছে। কোরআনের নিয়ম মেনে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেন করতে চান তারা সাধারণত ইসলামিক ব্যাংকগুলোতে লেনদেন করেন। তিনি বলেন, দেশের ৯০ ভাগ ব্যাংক গ্রাহক মুসলমান। একারণেই দেশের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের পরিধি দিন দিন বাড়ছে।

 দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আইন না থাকা বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং করতে গেলে কিছু সুবিধা-অসুবিধা সামনে চলে আসে। আইন থাকলে সেগুলো সহজে সমাধান করা যায়। তবে আইনের অভাবে শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রবৃদ্ধি কমেছে সেটা বলা যাবে না। বাস্তবভিত্তিক ব্যাংকিং এবং যথাযথ নিয়ম মেনে ঝুঁকি মোকাবিলা করার কারণে টেকসই ব্যাংকিং হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে বলে মনে করছেন ইসলামি ধারার ব্যাংক পরিচালনাকারীরা।

 তারা বলছেন, এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামি ব্যাংকগুলোর সাফল্য দেখে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এ আগ্রহ শুধু মুসলিমপ্রধান দেশে হচ্ছে তা নয়, অমুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রেও ইসলামী ব্যাংক গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, সমাজ উন্নয়ন ও মানবতার সেবাই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ২৪১টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা রয়েছে

 ২০১৭ সাল শেষে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৬৮টি। বর্তমানে দেশের সবগুলো ব্যাংকে মোট শাখা রয়েছে ১০ হাজার ২৮৬টি। অর্থাত্ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের শাখা রয়েছে ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ হয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা ছিল দুই লাখ এক হাজার ১০১ কোটি টাকা। আর সবগুলো ব্যাংকের ২০১৮ শেষে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ৬০ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।

 সে হিসাবে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিমাণ ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ। বর্তমানে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় কমছে। ২০১৭ শেষে যেখানে ছিল আট হাজার ৭২০ কোটি টাকা সেখানে ২০১৮ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৫২৪ কোটি টাকায়। আর চার বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। তবে বিনিয়োগ/আমানতের অনুপাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানেনি এসব ব্যাংক।

 ব্যাংকগুলো ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি। ইসলামিক ধারার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে বেশি রেমিট্যান্স আসে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। মোট রেমিট্যান্সের ৪৩ শতাংশ এসেছে শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ডিসেম্বর শেষে দেখা গেছে, ১৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এসেছে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। যা আগের বছরে ছিল ১১ হাজার ৭০ কোটি টাকা।

 বর্তমানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মোট জনশক্তি রয়েছে ৩৩ হাজার ২৭ জন। যা আগের বছরের চেয়ে দুই হাজারের চেয়েও বেশি। জানা গেছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা গ্রাহক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ-সক্ষমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং অ্যাপ্রোচ এবং ধর্মীয় ও কল্যাণমূলক প্রণোদনার কারণে ইসলামি ব্যাংকগুলো তরুণ-যুবকসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারছে।

 এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, কল্যাণ ও গ্রাহককেন্দ্রিক মডেলের কারণে অনেক ঋণগ্রহীতা ও আমানতকারী ইসলামি ব্যাংকিং পছন্দ করেন। বাংলাদেশের ৮টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হলো-ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এক্সিম), সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ