ফাল্গুনের আগমনী গান

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৩:৩৪:৪২ || পরিবর্তিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৩:৩৪:৪২

আব্দুল কাইয়ুম : বইছে দক্ষিণা বাতাস, কমছে শীতলতা। প্রকৃতি নবরূপে সাঁজতে ঝরে পড়ছে গাছের পাতাগুলো। নতুনভাবে জেগে উঠছে প্রকৃতি। মিষ্টি সুরে শোনা যায় কোকিলের গান। আর গানে গানে জানান দিচ্ছে ফাল্গুন আগমনের কথা। ফুলে ফুলে ভ্রমর করছে খেলা। আসর জমাচ্ছে পলাশ ও শিমুলের মাঝে। সবার প্রাণে আজ প্রকৃতির রং মাখা হাসি। এ বুঝি আসলো বসন্ত আর প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মনে।

কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম রঙে চারপাশ আলোকিত করে হাসছে সূর্যের হাসি। পুরনো পাতাগুলো ঝরে পড়ছে নিক্কন ধ্বনিতে। এসব কিছুই বলে দিচ্ছে আজ পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত। তীব্র কুয়াশার সকালে ঝকঝকে রোদ। বসন্তের আবহে বিদায় জানিয়েছে চাদরমোড়ানো শীতকে। বসন্ত আগমনের সাথে প্রকৃতি নিয়েছে নতুন রূপ, সেই সাথে তরুণদের হৃদয়ও লেগেছে দোলা। বাঙালির প্রাণে এক নতুন জোয়ার বইছে। বসন্তের ফুলের পরশে সবাই চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠেছে। বসন্ত মানেই পূর্ণতা আর বসন্ত মানেই প্রান চাঞ্চল্যতা।

গাছে গাছে গজানো নতুন কঁচিপাতার সাথে বসন্ত মিলে আজ একাকার। পাখিদের কলকাকলি আর দোয়েল ও শাকিলের নাচে বসন্তের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পথের ধারে বনে বনে ফুটেছে বাহারি রকমের ফুল। ফুলের সুবাসিত গন্ধে বাংলা আজ মুখরিত। বসন্তের রঙে আজ রঙিন হল তরুণ-তরুণীরাও। পহেলা ফাল্গুন কে বরণ করে নিতে গায়ে জড়াচ্ছে হলুদ পাঞ্জাবি আর রঙ-বেরঙের শাড়ি। বাংলার প্রকৃতির মতো তাদের মনও নতুন রূপে জেগে উঠছে।

বেলা বাড়তেই আড্ডা জমছে কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায়। গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে পিঠা উৎসবের যেন কমতি নেই। ঋতুরাজ বসন্তকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আয়োজন। দক্ষিণা হাওয়া মনকে উতলা করে তোলে। কোকিলের কুহু কুহু গান শোনা যায় দূর বাগান থেকে। তাই কবি বলেছেন, "ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত।"  হাজারো ক্লান্তির পর বসন্তের বাতাস প্রাণকে নতুনভাবে জেগে তোলে। রঙিন ফুলের ডালা নিয়ে বসন্ত আমাদের দোরগোড়ায়। ছোট বড় সবাই সাঁজতে চায় বাসন্তী সাজে।

ফাল্গুনের রঙিন ছোঁয়া শুধু প্রকৃতিতেই নয়, ছুঁয়ে যায় বাঙালির মনে ও প্রাণে। মনে পড়ে যায় একুশে ফেব্রুয়ারির কথা। বসন্তের মাসে বাংলার বীর সন্তানেরা তাদের রক্তে লাল করেছিল বাংলার বুক। যেন কৃষ্ণচূড়া ফুলে বাংলা আজ রঙিন। তাইতো বসন্ত বাঙালি জাতিকে নতুন ভাবে জেগে ওঠার স্বপ্ন দেখায়।

প্রজন্মনিউজ২৪

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন