আত্মহত্যার প্ররোচনা দিলেন সচিব

প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৬:৪৮:০৯

ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় অভিযোগে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সচিবের রোষানলের শিকার হয়েছে বেসরকারি চ্যানেল সময় টিভির প্রতিবেদক নাজমুস সালেহী।

ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি এই সচিব এবং এই প্রতিবেদককে নানাভাবে হয়রানির শিকার করেছেন তিনি। অতিরিক্ত অর্থ আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওই প্রতিবেদককে আত্মহত্যার পরামর্শ দেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি টাকা নেয়ার ব্যাপারে কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা কিছুই বলতে পারছেন না।

বুধবার সময় টিভি এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকা-কোলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা প্রতিটি চেয়ার আসনের জন্য নিজেদের অজান্তেই বাড়তি দিচ্ছেন ৬৮ টাকা। আর টিকিটের গায়ে উল্লেখিত মূল ভাড়ার হিসাব না দিয়ে বাড়তি টাকাকেই দেখানো হচ্ছে আসল ভাড়া হিসাবে। এতে না বুঝেই প্রতারিত হচ্ছেন ভারত-বাংলাদেশে চলাচলকারী এ ট্রেনের যাত্রীরা।

রেলওয়ে সূত্রমতে, সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-কলকাতা যাত্রী বহন করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। মৈত্রী ট্রেনে থাকে ৪৫৬ জন যাত্রী। যার মধ্যে কেবিনের জন্য বরাদ্দ ১৪৪টি আসন আর বাকি ৩১২ জনই চেয়ারের। সেই হিসাবে প্রতি মাসে চেয়ারের যাত্রী ৪ হাজার ৯৯২ জন। আর বছরে ৫৯ হাজার ৯০৪ জন। প্রতি আসনে ৬৮ টাকা বেশি হলে বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

চেয়ার আসনের টিকিটের গায়ে লেখা হিসাব থেকে দেখা যায়, ভাড়া ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ টাকা, ভ্যাট বাবদ ২৫২ টাকা আর ভ্রমণ কর বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা করে। উল্লেখিত এই তিন খাতের যোগফল ২ হাজার ৪৩২ টাকা হলেও টিকিটেই লেখা আছে ২৫০০ টাকা। বাড়তি ৬৮ টাকা খেয়াল না করেই গুনে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

এ বিষয়ে জানতে রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি রাগান্বিত হয়ে উঠেন।

সচিব বলেন, ভাড়ার বিষয়ে আপনার এত উৎসাহ কেন? অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকলেও তা আপনাকে জানাব কেন? আপনি তো যাত্রী না।

সচিব পরে ডেকে পাঠান রেলের অপারেশন বিভাগের উপপরিচালক মিয়া জাহানকে। তার কাছেও মেলেনি কোনো ব্যাখ্যা। কিন্তু পরের দিন মিয়া জাহান কৌশলে সময় টিভিকে এড়িয়ে যান।

আর এ বিষয়টি পুনরায় জানতে গেলে রেল সচিব ক্যামেরা ছাড়া তার কক্ষে ঢোকার অনুমতি দিয়ে এই প্রতিবেদকে আত্মহত্যার পরামর্শ দেন।

বলেন, ‘আপনি এখন আত্মহত্যা করেন। একটা স্টেটমেন্ট লিখে যান যে, রেলের লোকেরা আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে না এ মর্মে ঘোষণা দিলাম যে তারা কথা না বলার কারণে আমি আত্মহত্যা করলাম।

প্রজন্মনিউজ২৪/রাশেদ মোবারাক

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ