আশুলিয়ায় পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৪:০৪:৩০

সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে ৫ম দিনের মতো ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। এসময় পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। ঘটনায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার বেরন এলাকায় ও জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল সড়কের পাশ্ববর্তী প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানার শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ব্যাপারে শ্রমিকরা জানান, সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন ও গ্রেড অনুযায়ী বেতনবৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে তারা পঞ্চম দিনের মতো একটানা আন্দোলন করছেন।

তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত তারা উপায়ান্তর না পেয়েই এ পথ বেছে নিয়েছেন। বাজারের ঊর্ধ্বগতি, বাড়ির মালিকদের ভাড়া বৃদ্ধি, তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বৃদ্ধির কারণে সরকারের ঘোষিত মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যে মজুরি কাঠামো ঘোষণা হয়েছে সেখানে গ্রেড অনুযায়ী তা বৃদ্ধি পায়নি।

তাছাড়া ওভারটাইম, চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। আর তাদের মজুরি বৃদ্ধি শুধু আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা বিগত দিনে আদায় করেছেন বলেও তারা জানান।পুলিশ জানায়, সকালে বেরন এলাকার শারমিন গ্রুপের এ.এম ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে কারখানা থেকে সড়কে বেরিয়ে আসেন। এসময় শ্রমিকরা সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ এতে বাধা দিলে এবং লাঠিচার্জ শুরু করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় ওই কারখানার শ্রমিকদের সাথে যোগ দেয় পার্শ্ববর্তী স্টার্লিং অ্যাপারেলস, উইন্ডি গ্রুপ, সেতারা গ্রুপ, ডিজাইনার জিন্সসহ প্রায় ১০/১৫টি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রায় এক ঘন্টা পর আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে সকল পরিবহণে আরোহণকৃত যাত্রীরা।

এদিকে সকাল সোয়া ৮টায় ও বেলা পৌনে ১১টায় আশুলিয়ার জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল সড়কের পার্শ্ববর্তী প্রায় ৩০টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তারা কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় নেমে ওই সড়কের যানবাহণ চলাচলে বাধা দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শ্রমিকদের হঠাতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে তারা পৃথক পৃথক স্থানে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়।

পাশাপাশি শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার চেষ্টায় থাকতে দেখা গেছে। এতে ওই এলাকার মাসকট নিট ওয়্যার লিঃ, রেডিসন, রাতুল, ইউনিয়ন, কন্টিনেন্টাল, হ্যাশন কোরিয়া, সাউদার্ন মিলিনিয়াম, টেক্সটাউন, ক্রসফেয়ার, এভারগ্রীন, লিলি, এফজিএস, ডিআর, ফ্যাশন ফেয়ার, গ্রীন লাইফ, গ্লোরিয়াস, কমপ্লিট নিট ওয়্যারসহ প্রায় ৩০টি পোশাক কারখানায় তাদের উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা চলে যায়।

ঘটনায় ওই সড়কে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টার অধিক সময় কোনো পরিবহণ চলাচল করতে পারেনি। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ অপেক্ষমান ও পরিবহণে আরোহিত যাত্রীরা।আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় আশুলিয়ার জিরাবো-কাঠগড়া ও জামগড়াসহ বেশ কিছু এলাকার প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি’র সদস্যরা তাদের গাড়ি নিয়ে ঢাকা আরিচা ও জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল এবং আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে টহল দিচ্ছেন। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানাগুলোর সামনে দুই দিনের বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

প্রজন্মনিউজ২৪/মোস্তাফিজুর রহমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন