চট্টগ্রামে মাদক কারবারি পরিবারকে উচ্ছেদ

প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৭:২১:৩২ || পরিবর্তিত: ০৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৭:২১:৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে মাদক কারবারে জড়িত এক পরবিারের সদস্যদের গণধোলাই দিয়ে তাদের বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছে এলাকাবাসি। সোমবার রাতে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতীতে এ ঘটনা ঘট। প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আজু জানান, মৃত মতিউর রহমানের ছেলে নাজিম নির্দিষ্ট কোন পেশায় জড়িত না থাকলেও প্রায় দু’বছর থেকে মাদক সেবন ও পাচারের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, নাজিমের বিরুদ্ধে নারীর শ্লীলতাহানিও ভূমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আবুল কাশেম জানান, নাজিমের প্রতিবেশী আলি জহিরকে সে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে আলী জহিরের স্ত্রী জেসমিনের সাথে অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়ে ওই বাড়িতে নারী দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়।

এলাকাবাসী এতোদিন তার এসব কাজ বন্ধে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসলেও গতকাল সোমবার রাতে ইয়াবার বড় একটি চালান চট্টগ্রামে নিতে নাজিম মাদক পাচারে জড়িত একটি বাড়িতে অবস্থান করছে এমন খবরে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বাড়িটিতে হামলা চালালে বাড়ির মালিক মাদক পাচারকারি মো. ছাদেক  ও হাসিনা বেগমকে গণধোলাইয়ের এক পর্যায়ে পলায়ন করে। একই সময় নাজিমও বেধড়ক পিটুনির মধ্যে পলায়ন করে।

এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দীন জানান, হাসিনার বাবা মোহাম্মদ ইউছুফ টেকনাফ চ্যানেল হয়ে মালেশিয়ায় মানব পাচারের বড় একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। একই অপরাধে তার ভাই এখন জেলে রয়েছে। ইউছুফের ছেলে ওমর ফারুকও মাদক পাচারকালে গ্রফেতার হয়ে এখন চট্টগ্রাম জেলে কারাবন্দি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মাবুদ।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ইউছুফের পরিবার মায়ানমারে রোহঙ্গিা মুসলমি অধ্যুসতি আরাকানের বাসিন্দা। সেখানে সামরিক অভিযানের কোন এক সময় তারা বাংলাদেশে পাড়ি দেন। টাকার বিনিময়ে তারা বাংলাদেশের এন আই ডি (জাতীয় পরিচয় পত্র) সংগ্রহ করে। ইউছুফের সাথে মালেশিয়ার যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে অল্প খরচে মালেশিয়া গমন ও সে দেশে স্থায়ী হওয়ার মতো লোভ দেখিয়ে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাশঁখালি, বোয়ালখালি ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মানবপাচার চক্র।  একই সময় জড়িত হয়ে পড়ে মাদক পাচারেও।

বাংলাদেশ থেকে যেসব লোককে ফিশিং বোট যোগে মালেশিয়া পাঠানো হচ্ছিল তাদের জিম্মি করে মালেশিয়া প্রবাসি তার মেয়ে হাসিনা বেগমের স্বামী আব্দুর রহমান লাখ লাখ টাকা আদায় করেছে বলে একাধিক ভুক্তভোগি পরবিার অভিযোগ করেছে।

জানা যায়, গত দু’বছর আগে র্বতমান বাড়ির পাশের একটি বাড়ির সাথে তাদের আত্মীয়তার সর্ম্পক হয়। সেই সুবাদে একখন্ড আবাদি জমিতে একটি কুড়ে ঘরে স্থায়ী হয় ইউছুফের পরিবার । সেই বাড়িটিকেই মানব পাচার ও মাদক পাচারের অন্যতম নেটওর্য়াক হিসেবে গড়ে তুলে ইউছুফ। তার কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করে নাজিম, তার ছেলে ছাদেক ও মেয়ে হাসিনা বেগম।

নাজিমের বিষয়ে প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টেকনাফের একটি চক্রের সাথে নাজিমের সখ্যতা রয়েছে। তারা নাজিমের কাছে মাদকের চালান পৌছে দেন। সেই চালান নিরাপত্তা বিবেচনায় চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক এড়িয়ে সিএনজি যোগে মিরিখিল হয়ে বড় হাতিয়া সড়ক দিয়ে সাতকানয়িা পার হয়ে সোজা চট্টগ্রাম পৌছে দেন। সেখানেও কৌশলের আশ্রয় নেন নাজিম। কর্ণফুলি সেতু পার না হয়ে নৌকা যোগে নদী পার হন। সাথে সহযোগী হিসেবে একই এলাকার একাধিক ছেলে জড়িত রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। পলাতক হওয়ার পর থেকে নাজিম মুঠোফোনে তার প্রতিবেশীদের প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ সাইফুল ইসলাম জানান, মানব পাচার ও মাদক পাচারে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্ত নাজিম এখন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে ও জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ