মীরসরাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে

গ্রামীণ ঐতিহ্য মাটির হাঁড়ি পাতিল

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:৩৬:২২ || পরিবর্তিত: ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:৩৬:২২

সানোয়ারুল ইসলাম রনিমীরসরাই (চট্টগ্রাম):বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর বিভিন্ন ব্যবহারিক জিনিসপত্রের ভিড়ে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশের চিরচেনা মৃৎশিল্প।সেই সাথে প্রায় হারিয়ে গেছে মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজানো গ্রামীন সংস্কৃতির নানা উপকরণ ও গৃহস্থালী নানান প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান।জানা গেছে, মীরসরাইয়ের মৃৎশিল্প তৈরীকারক পরিবারগুলোর মধ্যে চলছে অভাবঅনটন।

কারণ তাদের তৈরি পণ্য এখন বাজারে চলছেনা বলে বদলে যাচ্ছে কুমারপাড়ার জীবনের চিত্র।মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার হাজীশ্বরাই গ্রাম।গ্রামে এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার।পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মৃৎশিল্প প্রস্তুতকারী পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে মেলায় অংশ গ্রহণের জন্য তৈরী করছে ছোট ছোট পুতুল ও মাটির খেলনা।

পরিবারের নারী সদস্যরা রঙের কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।পূর্বে মৃৎ শিল্পের খ্যাতি ছিল কিন্তু আজকাল অ্যালুমিনিয়াম, চীনা মাটি, মেলা–মাইন এবং বিশেষ করে সিলভারে রান্নার হাড়ি কড়াই প্রচুর উৎপাদন ও ব্যবহারের ফলে মৃৎশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।কথিত আছে মৃৎশিল্প প্রায় দুই থেকে আড়াই শত বছর পূর্ব থেকে চলে আসছে।

জানা যায় অতীতে এমন দিন ছিল যখন গ্রামের মানুষ এই মাটির হাঁড়ি কড়া, সরা,বাসন, মালসা ইত্যাদি দৈনন্দিন ব্যবহারের সমস্ত উপকরণ মাটির ব্যবহার করত,কিন্তু আজ বদলে যাওয়া পৃথিবীতে প্রায় সবই নতুন রূপ।নতুন সাজে আবার নতুন ভাবে মানুষের কাছে ফিরে এসেছে।আজ শুধু গ্রাম বাংলার নয় শহরের শিক্ষিত সমাজ ও মাটির জিনিস ব্যবহার করে। তবে তা বিচিত্ররূপে।

এখন মানুষের রুচি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিত্য নতুন রূপ দিয়ে মৃৎ শিল্পকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করছে।এক সময়ে মীরসরাইয়ের হাজীশ্বরাই, ওয়াহেদপুর, করেরহাট, গোপীনাথপুর, মায়ানী, সাহেবপুর গ্রামেও ছিল মাটির তৈরি পণ্য সামগ্রীর সমাহার।বিভিন্ন বাজারে ছিল মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল সহ অন্যান্য সামগ্রীর দোকান।কিন্তু এখন আর কুমারদের কর্তৃত্ব নেই এখানে।

মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বাজারে পাতিল দোকান নামে কুমারদের মাত্র একটি দোকান রয়েছে। এখানে দৃষ্টি নন্দন মাটির সামগ্রী কলসি, হাঁড়ি, পাতিল, সরা, মটকা, দৈ পাতিল, মুচি ঘট, মুচি বাতি, মিষ্টির পাতিল, রসের হাঁড়ি, ফুলের টব, চাড়ার টব, জলকান্দা, মাটির ব্যাংক, ঘটি, খোঁড়া, বাটি, জালের চাকা, প্রতিমা, বাসন–কোসন, ব্যবহারিক জিনিসপত্র ও খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি পাওয়া যায়।

তারাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করে কোনরকম নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। জোরারগঞ্জ বাজারের একমাত্র মৃৎশিল্প পণ্যের দোকানের বিক্রেতা সত্তরোর্ধ বয়োবৃদ্ধ সুধাংশু পাল জানান, প্রায় ৩০ বছরেরও বেশী সময় ধরে তার এই ব্যবসা করে আসছি। মীরসরাইয়ে কুমারেরা পেশা বদল করায় মাটির পণ্য সামগ্রী চাঁদপুর, কুমিল্লা, পদুয়া থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক এবং সিলভার সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় তাদেরব্যবসায় ধস নেমেছে বলে জানান তিনি।

প্রজন্মনিউজ২৪/ওসমান/রনি

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন