১০ জানুয়ারির আগেই মন্ত্রিসভার শপথ : কা‌দের

প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৫:১৭:৩৮

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আগেই মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে। এর আগে সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশিত হবে এবং তারা শপথ নেবেন। গেজেটের পর শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

তিনি বলেন, মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠ) দলের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনাকে সরকার গঠন করার জন্য আহ্বান জানাবেন।

মঙ্গলবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, ১০ জানুয়ারি সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ৭ মার্চ পল্টন ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ বিজয়ের মধ্যদিয়ে দলটি ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন রেকর্ড করে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৯৮টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে। এতে ২৫৯টি আসন পেয়েছে আওয়ামী লীগ। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) পেয়েছে ২০টি আসন। বিএনপি পেয়েছে ৫টি আসন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি পেয়েছে তিনটি আসন। জাসদ, বিকল্পধারা ও গণফোরাম পেয়েছে দুটি করে আসন।

এ ছাড়া তরিকত ফেডারেশন ও জেপি পেয়েছে একটি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন তিনটি আসন।

তারা যেন জনগণের রায়কে অসম্মান না করেন

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতায় নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে। তাদের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি। তাদের কোনো প্রচার-প্রচারণা, পোস্টার বা লিফলেট কোনোকিছুই ছিল না। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, বিশ্বকে দেখানোর জন্যই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাতজনের শপথ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশের উত্তরে তিনি বলেন, আমি আহ্বান জানাবো, তাদের শপথ নিতে। শপথ না নিয়ে তারা জনগণের রায়কে যেন অসম্মান না করেন। এটা আমার আহ্বান। তারা যদি শপথ না নেন তাহলে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী যেটা করার করবে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তাদের বলব, বাড়াবাড়ি না করে, প্রতিপক্ষের প্রতি হিংসা না দেখিয়ে ধৈর্য ও সংযমী হতে।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছিল ১৯৭০ সালের পরে, এমন গণজোয়ার আর দেখা যায়নি। সেই গণজোয়ারে বিএনপির পরাজয় হয়েছে। এটাই ছিল স্বাভাবিক, এটা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল। তারা যেমন আন্দোলন করতে পারেনি, তেমনি নির্বাচনেও জনগণের কাছে যেতে পারেনি।

অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা এতদিন কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। তারা এত নার্ভাস, এত হতাশ ছিল যে নেতারাই ভেঙে পড়েছিল। নেতারা মাঠে না থাকলে কর্মীরা কীভাবে আসবে? আন্দোলনেও তাদের প্রস্তুতি ছিল না। একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিও দিতে পারেনি। খালেদা জিয়া কারাগারে গেল, এরপরও তারা কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। আমার মনে হয়, বিএনপি আর আন্দোলন করতে পারবে না।

জাতীয় পার্টি এবারও সরকারের থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ