বাম জোটেরও ফলাফল প্রত্যাখ্যান

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১০:০৩:৫৩ || পরিবর্তিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১০:০৩:৫৩

বাম গণতান্ত্রিক জোটবাম গণতান্ত্রিক জোটএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন বলে মন্তব্য করে এই জোট। আজ রোববার সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাম জোট ফলাফল প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়।

বাম জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করে আরও একবার যে জবরদস্তিমূলক প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ করা হল। বাম গণতান্ত্রিক জোট এই নির্বাচন ও নির্বাচনের ফলাফলকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।’

Ispahani Tea
প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে গোটা নির্বাচনকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাম জোট। বাম নেতারা বলেন, ভোর থেকেই দেশব্যাপী ভোট কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্য জালিয়াতি, ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কার সিল মারতে বাধ্য করা, বিরোধী দলীয় ভোটারদের জোর করে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কোথাও সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া ঘটনা ঘটে। এ নির্বাচনকে তারা অর্থহীন ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গণনা। অনেক স্থানে সহিংসতা, নাশকতা, কারচুপি, ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অনেক আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের খবরও পাওয়া গেছে।

সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রায় অর্ধশত প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। দেশের বেশির ভাগ আসনেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। এ ছাড়া বিএনপির কর্মী ও সাধারণ ভোটারও নিহত হয়েছেন।

ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর সকালে অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের এজেন্ট না থাকার খবর সকাল থেকেই পাওয়া গেছে। অবশ্য সকালে যাঁরা ভোট দিতে গেছেন, তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন। কিন্তু বেশির ভাগ আসনে বেলা ১১টার পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। কেন্দ্রগুলোতে ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য বাড়তে থাকে। সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কেন্দ্রে কমতে থাকে।

নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট হয়নি।

এবারের নির্বাচনের দিন সারা দেশে মোট ১২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ৬ জন। এ ছাড়া একজন বিএনপির ও একজন ইসলামী ছাত্র সেনার নেতা। বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক। যশোরের একজন প্রার্থীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। ভোটাররাও ভোট দেওয়া নিয়ে নানা অভিযোগ করেছেন; বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সামনে সিল দিতে বাধ্য করা, ব্যালট নিয়ে কর্মীদের সিল দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ