সফর অবস্থায় সুন্নাত ও নফল নামাজ পড়ার হুকুম কি?

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০১৬ ০১:০৭:১৯

প্রশ্নঃ আমরা জানি যে সফর অবস্থায় ফরজ নামাজ কসর পড়তে হয়। এখন প্রশ্ন হল, সফর অবস্থায় সুন্নাত ও নফল নামাজ পড়ার বিধান কি?
উত্তরঃ সফর হলো অনেক কষ্টকর একটা জিনিস। ইসলাম সফরের কষ্টের দিকে তাকিয়ে শরীয়তের অনেক হুকুম ‍মুসাফিরের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। তাদের জন্য যেমন রোযা রাখার স্বাধীনতা দিয়েছেন তেমনি নামাযেরও কিছূ হুকুমে তাদের জন্য সহজ করে দিয়েছে।
সম্মানিত দ্বীনি ভাই, প্রথমে আমরা জেনে নেবো নবী করিম (সঃ) এবং সাহাবায়ে কেরামগন সফর অবস্থায় কত রাকাত নামাজ পড়তেন। এর পর ফোকাহায়ে কেরামদের অভিমত পেশ করবো । ইনশা’আল্লাহ।
হাদীসে আছে,


ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﻟﻘﻌﻨﺒﻲ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﻴﺴﻰ ﺑﻦ ﺣﻔﺺ ﺑﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺻﺤﺒﺖ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻓﻲ ﻃﺮﻳﻖ ﻗﺎﻝ ﻓﺼﻠﻰ ﺑﻨﺎ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺛﻢ ﺃﻗﺒﻞ ﻓﺮﺃﻯ ﻧﺎﺳﺎ ﻗﻴﺎﻣﺎ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻳﺼﻨﻊ ﻫﺆﻻﺀ ﻗﻠﺖ ﻳﺴﺒﺤﻮﻥ ﻗﺎﻝ ﻟﻮ ﻛﻨﺖ ﻣﺴﺐﺣﺎ ﺃﺗﻤﻤﺖ ﺻﻼﺗﻲ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺃﺧﻲ ﺇﻧﻲ ﺻﺤﺒﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻔﺮ ﻓﻠﻢ ﻳﺰﺩ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺣﺘﻰ ﻗﺒﻀﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻭﺻﺤﺒﺖ ﺃﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﻓﻠﻢ ﻳﺰﺩ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺣﺘﻰ ﻗﺒﻀﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻭﺻﺤﺒﺖ ﻋﻤﺮ ﻓﻠﻢ ﻳﺰﺩ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺣﺘﻰ ﻗﺒﻀﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺻﺤﺒﺖ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻓﻠﻢ ﻳﺰﺩ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺣﺘﻰ ﻗﺒﻀﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻟﻘﺪ ﻛﺎﻥ ﻟﻜﻢ ﻓﻲ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺳﻮﺓ ﺣﺴﻨﺔ


অর্থ, হযরত হাফস ইবনে আসিম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি ইবনে উমর (রাঃ) এর সাথে সফরে গেলাম। পথিমধ্যে তিনি আমাদের সাথে ফরজ নামাজ দুই রাকাত আদায় করেন। অতপর তিনি মুখ ফিরিয়ে দেখতে পান যে, কিছু সংখ্যক লোক দাড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞাস করলেন, এরা কি করছে? আমি বল্লাম তারা নফল নামাজ পড়ছে। তিনি বল্লেন, হে আমার ভ্রাতুস্পুত্র! যদি আমি নফল আদায় করতে পারতাম তবে ফরজ নামাজ চার রাকাতই আদায় করতাম। অতপর তিনি বলেন বহু সফরে আমি রাসুল (সঃ) এর সঙ্গী ছিলাম। কিন্তু আমি কখনো তাকে তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামাজ আদায় করতে দেখিনি। আমি বহু সফরে হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সঙ্গী ছিলাম। তাকেও তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামাজ পড়তে দেখিনি। তিনি আরো বলেন আমি হযরত ওমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) এর সাথেও বহু সফর সঙ্গী ছিলাম তাদেরকেও দুই রাতকাতের অধিক পড়তে দেখিনি। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে।
(আবু দাউদ হাদিস নং ১২৩৩)


সম্মানিত ভাইয়েরা বর্ণিত হাদিস থেকে পতিয়মান হয় যে, সফর অবস্থায় ফরজ নামাজ ব্যতিত আর কোন নামাজ আবশ্যক নয়। আর এটাই ছিলো রাসূল সাঃ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনদের আমল।
সফর অবস্থায় সুন্নাত নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের সুচিন্তিত অভিমত হল, সুন্নাতে কোন কসর নেই। তবে এতটুকু সুযোগ রয়েছে যে, সফর অবস্থায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ সুন্নাতে যায়েদাহ হয়ে যায়। যদি সুযোগ হয় তাহলে পড়ে নিবে। তবে ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া উচিত। কেননা রাসূল সাঃ ফযরের সুন্নাতের অনেক বেশী গুরুত্ব দিতেন।


সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পড়া ইচ্ছাধিন হলেও বিতির নামাজ পড়তে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ নামায গুরুত্ব সহকারে আদায় করতেন। এমনকি সফরে গেলেও এ নামায পড়া ছাড়তেন না।


ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻔَﺮِ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺍﺣِﻠَﺘِﻪِ ﺣَﻴْﺚُ ﺗَﻮَﺟَّﻬَﺖْ ﺑِﻪِ ﻳُﻮﻣِﺊُ ﺇِﻳﻤَﺎﺀً ﺻَﻼﺓَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺇِﻻَّ ﺍﻟْﻔَﺮَﺍﺋِﺾَ ﻭَﻳُﻮﺗِﺮُ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺍﺣِﻠَﺘِﻪِ
ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর অবস্থায় ফরয নামায ব্যতীত রাতের নফল নামায ইঙ্গিতের মাধ্যমে নিজ বাহনের উপর বসে- বাহন যে দিকে যায় সে দিকেই- পড়তেন। তিনি বিতর নামায আরোহীর উপর পড়তেন।
(ছহীহ বুখারীঃ ২/২৬ হাদীস নং ১০০১, মেশকাতুল মাসাবীহঃ ১/২৯৯)


উল্লিখিত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, সফর অবস্থায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পড়া জরুরী না। কেউ চাইলে পড়তে পারবে কেউ চাইলে না পড়তেও পারবে। তখন তা সুন্নাতে জায়েদার হুকুমে হয়ে যাবে। যখন সুন্নাতে মুয়ক্কাদাই নফল হয়ে গেলো তখন তো আর নফলের কথা বলা দরকার হয় না। কেউ যদি ইচ্ছা করে সময় যদি থাকে তাহলে নফল নামায পড়তে পারবে।
তবে সর্ব অবস্থায় বিতিরের নামায পড়তে হবে। কারন তা হলো ওয়াজিব। এবং রাসূল সাঃ সফর অবস্থায় বিতিরের নামায পড়তেন।
والله اعلم بالصواب

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ