স্মৃতিময় শীতের সকাল 

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:১৭:০৫ || পরিবর্তিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:১৭:০৫

বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশুদের মত আমারও বেড়ে উঠা এক অজপাড়া গাঁয়ে। গ্রামে শীতের আবহ  এবং আমেজ  আজকালের শহরের তুলনায় অনেকটাই আলাদা ।গ্রাম এবং মফস্বলে কনকনে শীতের মাঝে পুরো গ্রাম কুয়াশার ছাদরে ঢেকে যায়। কুয়াশায় আচ্ছন্ন সূর্য তার আলস্যকে অবমুক্ত করে কখনো উকি দেয় অপরাহ্নে বা তারও অনধিককাল পরে।

খুব ভোরে দাদার কুরআন তিলাওয়াতের মধুময় সুরে ঘুম ভাঙ্গার পরেও কাঁথা মুড়ি দিয়ে  আলস্যভারে শুয়ে থাকা ,কখনও মায়ের বকুনি খেয়ে সাধের ঘুমের ইস্তফা দিয়ে তড়িগড়ি করে চিতল ,ভাঁপা ,অথবা পুলি পিঠা খেয়ে মক্তবের উদ্দেশে রওয়ানা দিতাম। এর আগে একটা পলিথিন মুড়িয়ে পিঠা গুঁজে দাদি বলতেন যাও দাদুভাই ক্ষিদে লাগলে ক্ষেয়ে নিও।

তখন আমরা খুব ছোট ছিলাম। আমি আর আমার বড়ভাই ,ছড়িয়ে থাকা ধান ক্ষেতের মাঝে সরু আইল বেয়ে রাস্তায় উঠতাম।দুপাশে কুয়াশার ছাদর ভেদ করে গুটি গুটি পায়ে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যেতাম আমাদের গন্তব্যে। সবাই মিলে একসাথে ,একসুরে হাঁকিয়ে পড়তাম আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সাইয়্যেদিনা মাওলানা মুহাম্মদ…..

শীতকালে সূ্র্যমামারও ছিল আমাদের বেশ সখ্যতা ।আমাদের মত সেও উঠত বেশ দেরিতে।এসময় সূর্য মামার রংয়ের ভিন্নতা দেখে তাই আমরা বলতাম
লাল মিয়া ভাই উঠিল 
গাছের পাতা ঝরিল
শীতকালে এই কিচ্ছাটা আমাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল।

গ্রামের ছেলে -বুড়ো ,মা ঝি অর্থাৎ আবাল -বৃদ্ধ –বণিতা সবাই  সময় পেলে রোদ পোহানোয় ব্যস্ত হয়ে উঠত।কথনও কথনও রোদ না উঠলে বাড়ির সবাই মিলে উঠোনের পাশে ধান শুকানোর মাঠে রোদ পোহানো এবং আগুন জ্বালিয়ে সবাই মিলে তাপ দেয়া ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। 

একটা  বিষয় আমার এখনও মনে দাগ কাটে।খুব ভোরে কুয়াশার ছাদর ভেদ করে গ্রামের প্রতিবেশিরা খেঁজুর গাছের রস নামিয়ে কখও দিয়ে  যেতেন আমদের বাড়িতে। তখন আমরা আনন্দে মেতে উঠে ,মায়ের হাতের তৈরি রসের সিন্নির  অধীর আগ্রহে  অপেক্ষার প্রহর শেষে তৃপ্তি মেটাতাম পরম আনন্দে।

 এই লগ্নে ,যান্ত্রিক কলেবরে ইটের প্রাচীরের এই শহরে ,আজও পরম অনুভব করি হারিয়ে যাওয়া আমার সেই মমতায় মোড়ানো ,স্মৃতির আবহে ঘেরা শীতের সকাল।

হে স্মৃতিময় সকাল 
তুমি আসো বারে বারে 
আমার মাঝে ফিরে,
 আকুল আগ্রহে 
রব তোমারই পানে।

 

প্রজন্ম ‍নিউজ/এফ আই সবুজ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন