নির্বাচনের জন্য পৌনে চারশত কোটি টাকা ব্যয় হবে

প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:০৬:৫৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পৌনে ৪০০ কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।এ অর্থ ব্যয় করা হবে পৌনে ৫ লাখ আনসার সদস্যের অস্ত্র পরিবহন, খোরাকি ভাতা ও শুকনো খাবার কেনার পেছনে।নির্বাচনকালীন সারা দেশে মাঠপর্যায়ে সাত দিন অবস্থানরত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য এ বাজেট নির্ধারণ করা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুলিপি দেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) ড. মো. সাইফুর রহমান বলেন, মোট বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে আনসার বাহিনীর অঙ্গ সদস্যদের পেছনে।

অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তাবিত বাজেট সূত্রে জানা গেছে, ৩৮১ কোটি টাকার মধ্যে ৩৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে দৈনিক খোরাকি ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শুকনো খাবার, ফোর্স মবিলাইজেশন, অস্ত্র মবিলাইজেশন ও অফিসের আনুষঙ্গিক কাজে।

এছাড়া ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন বাবদ ব্যয় করা হবে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আনসার বাহিনী সদস্যদের তদারকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা ও জ্বালানি খাতে ব্যয় হবে ২৩ লাখ টাকা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জ্বালানি ও তদারকি কাজে ব্যয় হবে ৮৩ লাখ টাকা।৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে। আনসার বাহিনী থেকেও নেয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সারা দেশের ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে।প্রতিটিতে ১২ জন করে দায়িত্বে থাকবেন। সে হিসাবে আনসার বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন। পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচনের পরও তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে সারা দেশে নির্বাচনের আগে ও পরে সব মিলে ৭ দিন আনসার বাহিনী অবস্থান করবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

সূত্রমতে, আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আনসার-ভিডিপি বাহিনীর সদস্যরা ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। এই সদস্যরা সরকারের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নিয়মিত বেতন-ভাতাভুক্ত নন।পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রে সরকারের অন্যান্য সব সংস্থা, দফতর, অধিদফতর ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং ও সহকারী পোলিং অফিসার একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

এসব সংস্থার লোকজন নিয়মিত সরকারের বেতন-ভাতাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালীন অতিরিক্ত সম্মানী ভাতা পেয়ে থাকেন, যা ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের চেয়ে অনেক বেশি। অপরদিকে আনসার-ভিডিপি বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী এই সদস্যদের সারা বছর কোনো ভাতা না থাকায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালীন ভাতা নিয়ে তারা যথেষ্ট উন্মুখ থাকেন।

বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও নিজের ভোটকে বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তাদের এই অংশ গ্রহণে একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় তাদের পরিবারের প্রায় ২০ লাখ সদস্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকেন।প্রস্তাবে বলা হয়, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন অনেক কষ্টের বিষয়।

আনসার সদস্যদের নির্বাচনের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়।পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনও নির্বাচনের পরও তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হয়।আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া সত্ত্বেও আনসার বাহিনীর সদস্যদের বছরের অধিকাংশ সময় কোনোরূপ পারিশ্রমিক ছাড়াই স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে গ্রামীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর থাকেন। তারা শুধু নির্বাচন, পূজাসহ কিছু ঘটনায় স্বল্পকালীন মেয়াদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগী হয়ে কাজ করেন।

বিনিময়ে কয়েক দিনের ভাতা পেয়ে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে আনসারদের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এনে নির্বাচনকালীন ভাতার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলে তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে। দায়িত্ব পালনে তাদের আগ্রহ, আন্তরিকতা, মনোবল ও অঙ্গীকার সুদৃঢ় হবে।জানা গেছে, নির্বাচনে সমতল ও পার্বত্য উভয় ভূমিতে অবস্থিত ভোট কেন্দ্রে ৭ দিন কর্তব্যরত অবস্থায় আনসারদের থাকতে হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/রবিউল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ