এই প্রথম নতুন রুপে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি

প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৫:১৩:৪৩

বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার কাল জানিয়ে দিয়েছেন, আজ দুপুরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর। রীতি মেনে ওয়ানডে অধিনায়কের সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন ৮ ডিসেম্বর হওয়ার কথা। আজই কেন সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন মাশরাফি?

 

রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর থেকেই তাঁকে নিয়ে মানুষের বিপুল আগ্রহ, তাঁকে নিয়ে নানা প্রশ্ন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ না হতেই কেন রাজনীতিতে এলেন? কেনই বা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেন? এত দিন সব মতের, সব পথের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন; সেই ভালোবাসায় দেখা দিয়েছে বিভক্তি। শুনতে হচ্ছে নানা নেতিবাচক কথাও। তবুও সবার প্রিয় 'ম্যাশ' কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন? রাজনীতির কণ্টকময়,পিচ্ছিল পথে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি আছে নোংরা রাজনীতিতে রক্তাক্ত হওয়ারও। কেন মাশরাফি এই পথটাই বেছে নিলেন? কদিন আগে ফেসবুকে নিজের পেজে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবুও প্রশ্নের শেষ নেই। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে মাশরাফি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়ানডে সিরিজের আগেই রাজনৈতিক-বিষয়ক সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবেন। খেলা শুরু হয়ে গেলে যেন এটি নিয়ে প্রশ্ন না হয়, সে কারণেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

আজ মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনটা হলোও এক অদ্ভুত জায়গায়, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে! কোনো ক্রিকেটার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন, এই দৃশ্য পৃথিবীতে আগে কখনো দেখা গিয়েছে কি না, সন্দেহ! বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার জানিয়েছিলেন, সংবাদ সম্মেলন হবে বেলা ১টায়। মাশরাফি অনুশীলন সেরে এলেন ২টায়। আধঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে কত যে প্রশ্ন। প্রশ্নগুলো কখনো তাঁর কাছে কখনো লাসিথ মালিঙ্গার ইয়র্কার, কখনো মোস্তাফিজের দুর্দান্ত কাটার, কখনো জিমি অ্যান্ডারসনের সুইং, কখনো বা মুখ বরাবর শোয়েব আখতারের বাউন্সার হয়ে ধেয়ে এসেছে!

প্রশ্নের উত্তর দিতে কখনো মাশরাফি বিমর্ষ হয়েছেন, কখনো বা মুখে ঝুলিয়ে দিয়েছেন কাষ্ঠহাসি। আধঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন প্রশ্ন শেষ হচ্ছিল না, একটা পর্যায়ে বাধ্য হয়ে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে হাঁটাই দিলেন। ক্রিকেটবিষয়ক কত কঠিন, জটিল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তবে ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কখনো এমন সংবাদ সম্মেলনে আসতে হয়নি মাশরাফিকে নিশ্চিত।

রাজনীতিতে আসা নিয়েই এত প্রশ্ন। তা কোন ভাবনায় নাম লিখিয়েছেন রাজনীতিতে, সেটির উত্তর আরও বিস্তারিত দিলেন মাশরাফি, 'আমার ক্যারিয়ার অবশ্যই শেষের দিকে। না আমি শচীন টেন্ডুলকার, না আমি গ্লেন ম্যাকগ্রা যে মানুষ আমাকে স্মরণ করবে। আমার মতো করেই ক্রিকেট খেলেছি। আমার মতো করেই সংগ্রামমুখর ক্যারিয়ারটা গড়েছি। মানুষের জন্য কিছু করা সব সময়ই উপভোগ করেছি। এটা আমার ছোটবেলার শখ ছিল বলতে পারেন। ছোটবেলার চাওয়া-পাওয়া ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগটা দিয়েছেন। যদি বৃহৎ পরিসরে কিছু করা যায়, এ ভাবনাতেই রাজনীতিতে আসা।'

'খেলা শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে আর প্রশ্ন না হোক, যে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার এখন দিয়ে ফেলছি', খেলার মধ্যে রাজনীতি যেন না আসে, মাশরাফি বললেন, সে কারণেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। খেলার মানুষ রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, মাশরাফি চাইলেও কি আর এড়াতে পারবেন? অধিনায়কের ক্রিকেট আর রাজনীতি এখন হাত ধরাধরি করেই এগোবে। না চাইলেও সময়-অসময়ে চলে আসবে এ প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ ভালো করলেও আসবে, খারাপ করলেও আসবে। এমনকি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টস করতে গিয়েও যদি ধারাভাষ্যকররা তাঁর কাছে রাজনৈতিক-বিষয়ক মন্তব্য জানতে চান, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!

হেরে যাওয়ার পরও সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন অনেকবারই। খেলার ধকল আর পরাজয়ের ক্লান্তি ছিল চোখেমুখে। আজকের সংবাদ সম্মেলনটাকে সেগুলোর সঙ্গেও মেলানো গেল না। অথচ রাজনীতির দীর্ঘ দুরূহ পথ তো পড়ে আছে মাশরাফির সামনেই।

প্রজন্ম নিউজ/শাহারিয়ার রহমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ