নির্বাচনে দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০৪:৫৯:৫৮

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এজন্য দলের দুটি মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পর আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি উদ্বোধন করা হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলবে।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের জন্য শেখ হাসিনা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আরেকটি আসন এখনো জানানো হয়নি। পরে জানানো হবে বলে ওবায়দুল কাদের জানান। ওবায়দুল কাদের গোপালগঞ্জ -৩ আসনের ফরমটি কিনে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লার কাছে হস্তান্তর করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের পাশাপাশি তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা রংপুরের পীরগঞ্জ (রংপুর-৬) আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন। পরে তিনি রংপুর-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে ওই আসনের এমপি হন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পাশাপাশি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্য রংপুর-৬ আসনের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন এবং পরে তা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাববী মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন।

কাদের বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরপরেই আমরা মনোনয়ন ফরম বিতরণের কাজ শুরু করেছি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে সারাদেশে নির্বাচনমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের বাইরে আন্দোলনের যত ডাকই দিক না কেন জনগণ তাতে সাড়া দেবে না।’

সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট দুই হাজার ৬০৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিল। এবার সেই সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন দলটির নেতারা। আওয়ামী লীগের ৪ হাজারেরও বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী এক বছর ধরে নানাভাবে নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। সেই হিসেবে গড়ে প্রতি আসনে ১৩ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এবার মনোনয়ন ফরমের মূল্য ২৫ হাজার টাকা  থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফরম বিক্রি থেকে গতবার আওয়ামী লীগের তহবিলে জমা পড়েছিল প্র্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এবার তা দশ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে দলটির নেতাদের প্রত্যাশা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২৩ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বর, প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবার শেষ পর্যন্ত ভোটে আসবে ধরে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। এজন্য নির্বাচনী কার্যক্রমও সবার আগে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল  হোসেন, রেমন্ড আরেংসহ অন্যান্যরা।

 প্রজন্মনিউজ২৪/এম বিল্লাহ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ