আবার নতুন করে শুরু করতে চান

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৩:০০

অশিল্পীসুলভ আচরণের অভিযোগে পড়েছিলেন ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে। তিন মাস যেতে না যেতেই ফিরলেন। সারিকা সাবরিনকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান ।

জীবনের কিছু সময় ভুলে থাকতে চান সারিকা। কিন্তু আশপাশের মানুষ তো সেসব ভোলে না!তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় প্রায়ই। তাই সারিকাও ভুলতে পারছেন না।অবশ্য জীবনের কোন সময়টা বা কী ভুলতে চাচ্ছেন, তা নির্দিষ্ট করে বললেন না মডেল-অভিনেত্রী।

অশিল্পীসুলভ আচরণের অভিযোগে ১ আগস্ট থেকে তাঁকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে টেলিভিশন প্রগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। অবশ্য তার আগে থেকেই অভিনয়ে তিনি অনিয়মিত। বাচ্চার জন্য মাঝখানে কাজ কিছুটা কমিয়েছিলাম।মনে হচ্ছিল, ওকে সময় দেওয়া দরকার।

ব্যক্তিগত আরো কিছু ব্যাপার গুছিয়ে নিয়ে পুরোদমে শুরু করতে চেয়েছিলাম বললেন সারিকা।কাজে ফেরার জন্য নিজেকে যখন প্রস্তুত করেছেন, তখন তিনি নিষিদ্ধ। চাইলেও অভিনয় বা মডেলিং করতে পারছেন না। নিজের ভুল স্বীকার করে আবেদন করলেন অ্যাসোসিয়েশনে, ফলও পেলেন।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে সংগঠনটি। সারিকা বলেন, আমার কিছু ভুলত্রুটি ছিল, এ জন্যই ক্ষমা চেয়েছি। সংগঠন বরাবর চিঠি দিয়েছি, প্রকাশ্যে ফেসবুকেও ক্ষমা চেয়েছি। সব সময়ই চেষ্টা করেছি সহকর্মীদের মন জুগিয়ে কাজ করতে।তবু কিছু ভুল তো হয়েই যায়।

নিষিদ্ধ দিন শেষে ৩ নভেম্বর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন—সকাল আহমেদের নাটক ব্রেকিং নিউজ-এ।ভালোবাসা দিবসে প্রচারিত হবে এটি। নাটকে সারিকার সহশিল্পী সজল।আজ থেকে টানা তিন দিন শুটিং করব আরেকটি নাটকের—শূন্যস্থান পূরণ।১৩ নভেম্বর থেকে আরো একটি নাটকের শুটিং।

বড় ব্র্যান্ডের বেশ কিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করার কথা হয়েছে। চূড়ান্ত হলেই জানাতে চাচ্ছি। নতুন করে শুরুর এই সময়ে ভালোই ব্যস্ত হয়ে গেলাম। এখন থেকে এমন ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই কাজ করব—বললেন সারিকা।মডেলিং-অভিনয়ে ১০ বছরের ক্যারিয়ার তাঁর। বরাবরই সারিকার বিরুদ্ধে নির্মাতাদের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই শিডিউল ফাঁসান।

খুব কমই এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।এই অভিযোগ মানতে চাইলেন না সারিকা, এসব শুনলে সত্যিই কষ্ট পাই। এই ১০ বছরে তিন শর বেশি কাজ করেছি। এর মধ্যে হয়তো একটা-দুইটা কাজ অ্যাকসিডেন্টলি ঠিকভাবে করতে পারিনি। সেই দু-একটা ঘটনা দিয়ে মানুষ পুরো ক্যারিয়ারটা বিচার করে।

বাকি ২৯৮টি কাজ যে ভালোবাসা দিয়ে করলাম, তার কি কোনো মূল্য থাকবে না? সেই দু-একটা কাজের জন্য নিজেকেও কিন্তু কাঠগড়ায় তুলি। সারা বিশ্বে এখন মি টু ঝড়। এ প্রসঙ্গে বললেন সারিকাও, শুরু থেকেই বড় ব্র্যান্ড ও সময়ের সেরা ডিরেক্টরদের সঙ্গে কাজ করেছি।

আমার গ্রুমিং হয়েছে অনেক গোছানো এবং পেশাদারভাবে মেহেদির একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে না যাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপেশাদারির অভিযোগ উঠেছিল একবার। শুটিং হওয়ার কথা সাভারের আশপাশে কোনো এক জায়গায়। যেদিন চুক্তি করলাম, কথা হয়েছিল শুটিংয়ের দিন ভোরবেলা আমি স্পটে থাকব।

কিন্তু শুটিং শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে তারা বারবার বলছিল, আমি যেন আগের দিন ওখানে যাই। কিন্তু কেন? আমার কাছে ব্যাপারটি অপেশাদার আচরণ মনে হয়েছে। তাই কাজটি করিনি।কিন্তু অভিযোগ তো সারিকার বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ পেল পত্রপত্রিকায়। কেন আগে মিডিয়ায় জানাননি আপনি?কারণ বিষয়টি নিয়ে আমি রং ছড়াতে চাইনি।

আমার কাছে মনে হয়েছে ওরা আনপ্রফেশনাল, তাই কাজটা করব না, ওখানেই শেষ। কিন্তু ওরা উল্টো অ্যাটাক করল আমাকেই। ওই সময় আমার জীবনের অনেক ইস্যু নিয়ে খুব ঝামেলার মধ্যে ছিলাম।প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছু আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে।এ ব্যাপারে কিছু বলার সময়ই পাইনি তখন।

তার মানে বাংলাদেশের শোবিজেও এমন ঘটনা ঘটে? “একটা ক্লাসে যেমন ভালোমন্দ শিক্ষার্থী থাকে, একটা অফিসে যেমন ভালো-খারাপ মানুষ থাকতে পারে, তেমনি শোবিজেও থাকে। সারা বিশ্বের মতো আমাদের এখানে হৈচৈ হচ্ছে না, কারণ এখনো এখানে অনেক কিছুকে ট্যাবু মানা হয়, ভিকটিম হয়ে যায় কালপ্রিট।

তাই হয়তো অনেকে মুখ খোলে না—বললেন সারিকা।নতুন করে শুরু করেছেন। ভবিষ্যৎ ভাবনা কী? ‘যতটা পেয়েছি তাতেই খুশি। তবে ভেতরে একটা হতাশা থাকেই, হয়তো আরো ভালো কিছু করতে পারতাম। প্রফেশনাল ও পার্সোনাল লাইফ ব্যালান্স করতে গিয়ে নিজেকে বঞ্চিত করেছি হয়তো। এখন সব কাটিয়ে উঠেছি। এবার নতুন উদ্যমে কাজ করব। নিশ্চয়ই তার ফল পাব।

প্রজন্মনিউজ২৪/ওসমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ