রোহিঙ্গা সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের ২০ কোটি ডলারের চুক্তি

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৬:৩০

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রেহিঙ্গাদের জন্য সহায়তাসহ দুটি প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে সংস্থাটি।

চুক্তির আওতায় ‘সাসটেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুডস (সুফল)’ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার। আর ‘সেকেন্ড রিসিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক-২)’ প্রকল্পে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে অনুদান দেবে আড়াই কোটি ডলার।রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান।

চুক্তি শেষে মনোয়ার আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় সহায়তা। আশা করি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে বিশ্বব্যাংক সব সময় আমাদের পাশে থাকবে।

চিমিয়াও ফান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বব্যাংক অনুদান দিয়ে সহায়তা করছে। এসব সহায়তায় শুধু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীই যে উপকার পাবে তা নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।চুক্তি অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সুফল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ, তথ্য পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ দেয়া, গবেষণা, সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং সংরক্ষিত বন এলাকা উন্নয়ন, প্রকল্প এলাকার বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কাজের সুযোগ বৃদ্ধি,

বন সম্প্রসারণ এবং বনের বাইরে বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, পরিবীক্ষণ এবং রিপোর্টিং করা হবে। ৫ বছরের গ্রেস রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে ।এ ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ এবং শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। অন্যদিকে রস্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে ঋণ হিসেবে দিয়েছিল ১৩ কোটি ডলার।

এখন এ চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে আড়াই কোটি ডলার অনুদান হিসেবে দিচ্ছে সংস্থাটি।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শিশুসহ অন্যদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পাঠ্যপুস্তক ও উপকরণ সামগ্রীর পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, মহিলা শিক্ষক নিয়োগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য নতুন শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি ও বিদ্যমান শিক্ষা কেন্দ্রকে সহায়তা দেয়া, ক্যাম্পের শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়োগকৃত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব অধিদফতরগুলোর ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।রোহিঙ্গাদের শিক্ষার জন্য কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার সাধন ও পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম নেয়া হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/জামান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন