খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর শিক্ষক কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৮:৩০ || পরিবর্তিত: ০৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৮:৩০

আশিক আকাশ খুলনা প্রতিনিধি : ২য় শিফটের সম্মানী ভাতার সমস্যা নিরসনে  খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২য় শিফট এর ক্লাস বর্জন করে কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় তারা ইন্সটিটিউট এর প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত স্বারক নং ০৭.০০.০০০০.১৭২.৩৭.০০৩.১৫-২৬২ অনুযায়ী পলিটেকনিক শিক্ষকদের বিলুপ্ত ৭ম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২৫/১০/১৮ তারিখ বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি,বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, টিএসসি শিক্ষক সমিতি  টিএসসি শিক্ষক পরিষদ এর যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ দুপুর ১:৩০ মিনিট থেকে খুলনা পলিটেকনিক এর শিক্ষক-কর্মচারিরা এই কর্মবিরতি পালন করেন।

এ সময়  বাংলাদেশ পলিটেকনিক  শিক্ষক সমিতির  প্রচার সম্পাদক জনাব আনসার আলি বলেন দেশে নারী-পুরুষকে সমান বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু আমরা পলিটেকনিক এর শিক্ষকরা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষদের চেয়ে ২/৩ গুন বেশি পরিশ্রম করে তাদের সমান সম্মানী পাই না।

 

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন খুলনা পলিটেকনিক এর ননটেক বিভাগ এর শিক্ষক জনাব ইমদাদুল হক ফাহাদ।  তিনি বলেন আমাদের ডিজি মহাদয় ও সচিব মহাদয় আমাদের সাথে এক রকম কথা বলেন আর মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আর এক রকম কথা বলেন।ওনারা ২য় শিফট এর শিক্ষার্থীদের বেসরকারি পলিটেকনিক এ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তিনি আরো বলেন সারা বাংলাদেশে  ২য় শিফটে ১লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই ১ লক্ষ ছাত্র ডিজি সাহেবের কথায় কখনো বেসরকারি পলিটেকনিক এ চলে যাবে না। এই ১ লক্ষ ছাত্র যদি মাঠে নামে তাহলে ওই ডিজি মহাদয় আর তার চেয়ারে থাকতে পারবেন না।

তিনি আরো বলেন ডিজি সাহেবদের, সচিব সাহেবদের  ভাবা উচিৎ ছাত্র শিক্ষদের ঠকিয়ে কেউ কোন দিন পাড় পায় নি আর পাবে ও না।তিনি বলেন আরো বলেন মন্ত্রনালয় ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর একজন পিয়ন ও আমাদের চেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা পান।এ সময় তিনি যে সকল শিক্ষক কর্মচারী কর্মবিরতিতে অংশ নেয় নি তাদের সমালোচনা করেন ও তাদের সকলকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহবান জানান। সব শেষে তিনি বলেন সৃষ্ট সমস্যার সমাধান না হলে আমরা ২য় শিফটে ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দিব। তখন ২য় শিফটের ১ লক্ষ শিক্ষার্থী ই তাদের দাবি আদায় করে দিবে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ইনভায়রনমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এর ইন্সট্রাকটর জনাব পবিত্র কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন যখন আমরা ছাত্র ছিলাম তখন পলিটেকনিক এ শিফট ছিল একটা। ক্লাসে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল।  এবং যা বেতন ভাতা দেওয়া হত তা যথেষ্ট ছিল। তখন পলিটেকনিক এর চাকচিক্য দেখে সাধারন কলেজ এর অনেক শিক্ষক পলিটেকনিক এ চাকরি নিত।

কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেড়েছে,  আগের চেয়ে দ্বিগুন।কোর্স এর সময় ৩ বছর থেকে ৪ বছর হলো। কিন্তু আমাদের শিক্ষক কর্মচারী সংখ্যা একই রয়ে গেছে।আমরা এত দিন ২য় শিফটের জন্য মুল বেতন এর ৫০% সম্মানী ভাতা পাইতাম, কিন্তু এখন তা ও কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমাদের সকলের উচিত এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানানো উচিত।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিভিল ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষক জনাব শিমুল মন্ডল। তিনি বলেন আমরা ১ম শিফট ২য় শিফট দুই শিফট এর জন্য সমান পরিশ্রম করি কিন্তু আমাদের ২য় শিফট এর জন্য মুল বেতন এর অর্ধেক সম্মানী দেওয়া হয়।  আমি মনে করি এই বেতন বৈষম্যের মাধ্যমে আমাদের আর্থিক দিক দিয়ে অনেক অবমাননা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় এই সমস্যা সৃষ্টির মাধ্যমে ২য় শিফট এর ১ লক্ষ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষৎ এর কথা চিন্তা করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ইলেকট্রিক বিভাগের প্রধান জনাব পলি দাস, সিভিল বিভাগ এর শিক্ষিকা জনাব মৌসুমি আক্তার, সহ আরো অনেক কর্মচারী বৃন্দরা,

সভাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পলিটেকনিক  শিক্ষক সমিতি খুলনা জোন এর সাধারন সম্পাদক, খুলনা পলিটেকনিক এর সিনিয়র শিক্ষক জনাব তালাত মাহমুদ জোয়াদ্দার।

উল্লেখ্য যে এর আগে এই একই দাবি তে গত ২৮ অক্টোবর প্রতিবাদ সভা, ৩১ তারিখ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আগামি ৮ নভেম্বর তারিখ এ বাকাশিঅকস ও পলিটেকনিক শিক্ষকদের অন্যান্য সংগঠন এর যৌথ সভায় তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে বলে জানা যায়। খুলনা পলিটেকনিক ছাড়া ও ফেনি পলিটেকনিক, রাজশাহী পলিটেকনিক , নরসিংদী পলিটেকনিক সহ সারাদের ৫২ টি সরকারি পলিটেকনিক এর প্রায় সব পলিটেকনিক এ কর্মবিরতি পালিত হয়।

প্রজন্মনিউজ২৪/আকাশ/জহুরুল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ