গাজীপুরে যুবলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:০৪:২৯

গাজীপুর মহানগরীতে এক যুবলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর সন্ত্রাসীরা তাঁর লাশ বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে পুকুরপারে ফেলে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট দেওড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মোতালেব (২৮) ওই এলাকার আওয়ামী লীগকর্মী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের একাংশের সভাপতি ছিলেন। তিনি গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি ও কুপিয়ে আহতসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজি নিয়ে আধিপত্যের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ খুনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরে মোতালেব বাড়ির পাশের নাজিমউদ্দিন নাজুর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর এবং জাহাঙ্গীরকে মারধর করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আবার মারধর করতে গেলে জাহাঙ্গীরের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল (৩৩), বাবা নাজিমউদ্দিন নাজু ৫৮), ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাইজুল কবির (৫৯) ও ফিরোজ (৪০) মিলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মোতালেবকে হত্যা করে।

এ সময় দেখতে পেয়ে ছেলের পক্ষ এগিয়ে গেলে মোতালেবের বাবা মোফাজ্জল হোসেনকেও (৫৫) কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে মোতালেবের মা মমতাজ বেগম স্বামীকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। হত্যায় জড়িতরাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন আরো জানায়, এলাকায় সন্ত্রাসী মোতালেব গ্রুপ ও রিপন লস্কর গ্রুপের কাছে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। তুচ্ছ ঘটনায় তারা কোপাকুপি করে। বাড়িঘর তৈরি করতে গেলেও তাদের চাঁদা দিতে হয়।

তাদের অব্যাহত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহজাহান সাজুর উদ্যোগে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোরা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ কমিশনার, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদর থানার ওসিসহ কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মোতালেব ও রিপন লস্করের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাড়ে ৮০০ লোকের সইযুক্ত একটি আবেদন পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়। সভা শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা পর মোতালেব সহযোগীদের নিয়ে রিপন লস্করের বাড়িতে হামলা করে; রিপনকে না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর ও বোন ও ভাগ্নাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই দিনের হামলায় অংশ

নেওয়ার জন্য মোতালেব জাহাঙ্গীর ও ফিরোজকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। না যাওয়ায় দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই জেরে মোতালেব গতকাল সকালে জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে মোতালেবের চাচা লোকমান হোসেন দাবি করেন, ‘সকালে স্থানীয় নাজিমউদ্দিনের ছেলে ও জহিরুল মোবাইল ফোনে তাঁর ভাতিজাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বাসা থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় ফিরোজ ও ফাইজুলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত মোতালেবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় তাঁর ভাই ছেলেকে বাঁচাতে সেখানে গেলে তাঁকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁর দুই হাত ও একটি পা ভেঙে ফেলা হয়েছে।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাহজাহান মিয়া সাজু বলেন, পাশের ভোরা এলাকার লস্কর পরিবারের সঙ্গে মোতালেবের বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে মোতালেবের নেতৃত্বে স্বপন লস্করের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, মোতালেবের হাত, গলা, মাথা ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১০-১২টি বড় কোপের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি ও কুপিয়ে আহতসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। তাঁকে খুনের ঘটনায় যাদের নাম তাৎক্ষণিক জানা গেছে তাদের কাউকে বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চলছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/জামান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ