ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বের হয়েছে-ইব্রাহিম খালেদ

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩২:৩৮

খেলাপি ঋণের করাল গ্রাসে শিল্প খাতও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ খাতে বিতরণ করা ঋণের বড় একটি অংশই খেলাপি হয়ে গেছে। বর্তমানে খাতটিতে খেলাপি ঋণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর বাইরে ব্যাংকিং খাতে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে।

এছাড়া ৩৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন বা মূল হিসাব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। শিল্প খাতে খেলাপি যোগ্য ঋণ রয়েছে এক লাখ কোটি টাকা। এ অর্থ পুনর্গঠন ও বারবার পুনঃতফসিল করে নিয়মিত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদায় অনিশ্চিত ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন,প্রজেক্ট লোনের নামে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বের করা হয়েছে। এর পেছনে সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি জড়িত। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকারও অনিয়মে সহায়তা করেছেন।এটি দমনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারও ছিল নীরব।

মূলত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া এর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। আশা করব, জনগণের রায় নিয়ে নতুন সরকার এর একটি সুষ্ঠু সমাধান করবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গত কয়েক বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও ঋণ অনিয়ম হয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের পুরনো লুটপাটের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের অভিনব কেলেঙ্কারি।

তার চেয়েও নতুন কেলেঙ্কারি একের পর এক বেরিয়ে আসছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের। পাশাপাশি দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও নাজুক।এ কারণে খেলাপি ঋণের অংক এক প্রান্তিক থেকে আরেক প্রান্তিকে বেড়েই চলেছে।এসব ঘটনার বেশির ভাগই শিল্প খাতে ঘটেছে। কিন্তু ঘটনার নেপথ্যের কোনো রাঘববোয়ালকে আজও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ঋণ খেলাপিদের ধরার পরিবর্তে সব পক্ষ এখন নীরব। কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার চুপচাপ। নির্বাচনের পরে যদি কিছু হয়। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এর থেকে বের হওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শিল্প ঋণে খেলাপির পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৩০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।সে হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশ।

এতে বেশি ঝুঁকিতে বড় ও ছোট শিল্প। কারণ বছরে উভয় শিল্পে যথাক্রমে খেলাপি বেড়েছে ৮০ ও ১২৫ শতাংশ। আর এসব খেলাপি ঋণের বেশির ভাগই সরকারি ব্যাংকের।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদ ও লুটপাটের কারণে এমনটি হয়েছে। কারণ এসব ঋণ যখন বিতরণ করা হয় তখন শিল্প ঋণে সুদের হার ছিল ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ। এমনকি ক্ষুদ্র শিল্প ঋণে সুদের হার ছিল প্রায় ১৭ থেকে ২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ মাস জুন পর্যন্ত শিল্প খাতে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। যা ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে ছিল ৩ লাখ ৬৭২ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে শিল্প ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪৫ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা বা ২৬ দশমিক ২১ শতাংশ।

এ সময়ে শিল্প ঋণ আদায় হয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শিল্পঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা।এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণ বিতরণ হয়েছে ৭০ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা।

এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে এ সময়ে শিল্প খাতে চলতি মূলধন বিতরণ হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে মেয়াদি শিল্প ঋণে খেলাপি হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা।

যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৬৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বড় শিল্প ঋণে খেলাপি প্রায় ১৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।

এছাড়া ক্ষুদ্র শিল্পে খেলাপি ২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১২৫ শতাংশ বেশি। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে চলতি মূলধন ঋণে খেলাপি ১১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

প্রজন্মনিউজ২৪/ওসমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ