বিপিসি জ্বালানি নানামুখী চাপের মুখে আমদানি ও বিপণনে

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১১:০৭:১৮

জ্বালানি আমদানি এবং বিপণনে নানামুখী চাপ সামাল দিতে হচ্ছে দেশের জ্বালানি সরবরাহে নিয়োজিত সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে বিপিসি।

একদিকে গত কবছরে দেশের বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদার পরিমাণ দফায় দফায় বৃদ্ধি,অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মুখে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিপিসিকে। বিপিসির একটি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৩ অক্টোবর থেকে সংস্থাটিকে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করতে হচ্ছে।

দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বর্তমানে বিপিসির দৈনিক লোকসান দাঁড়াচ্ছে ৩০ কোটি টাকা।বিপিসি সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার মুখে বিপিসিকে প্রতি বছর ৮শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ হারে আমদানিকৃত তেলের পরিমাণ বাড়াতে হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বিপিসিকে শোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে সর্বমোট ৫৮ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়েছে।

 এর পরের বছর ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আমদানি করতে হয়েছে ৬৭ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি।ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় বিপিসি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য জ্বালানি আমদানির সর্বমোট সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন।

 তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ২০১৯ সালের জুন নাগাদ চলতি অর্থ বছরের জ্বালানি আমদানির সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমদানির পরিমাণ ৪/৫ লাখ মেট্রিক টন কমও হতে পারে।দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির চাহিদা বেড়ে দাঁড়ানোর জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের কথা তুলে ধরেন বিপিসির জিএম (ফিন্যান্স) মনিলাল দাশ।

তিনি বলেন, গত বছর গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় দেশের জ্বালানি ভিত্তিক ডুয়েল বেজ বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রগুলোতে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যায়।ফলে এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য গত অর্থ বছর বিপিসিকে বর্ধিত পরিমাণে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে হয়েছে।

দেশের ৫৪টি ডুয়েল বেজ বিদ্যুত্ কেন্দ্র ফার্নেস অয়েল এবং ডিজেলে বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারে।সরকার এসব বিদ্যুত্ উপাদন কেন্দ্রগুলোকে বিদেশ থেকে সরাসরি ফার্নেস অয়েল আমদানিরও অনুমতি দিয়েছে কিন্তু তাদের আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল আসার ক্ষেত্রে সমস্যা হলে তাদের উত্পাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিপিসিকেই জ্বালানি সরবরাহ করতে হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, দেশের গ্রাম-গঞ্জ ও প্রত্যন্ত এলাকায় রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সেসব স্থানে পরিবহন ব্যবস্থাও সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে পরিবহন ও গণ-পরিবহনের সংখ্যা বাড়ায় এই খাতেও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।অন্যদিকে দেশের কৃষি সেক্টরেও সেচের জন্য জ্বালানির বিপুল পরিমাণ চাহিদা বেড়েছে।

অন্যদিকে আরো নতুন নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র উত্পাদনে আসায় জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় আসছে। তিনি বলেন, চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থ বছর রাষ্ট্রীয় জ্বালানি শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্নরিফাইনারি লিমিটেডের জন্য ১২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বর্ধিত চাহিদা মাথায় রেখে বিপিসির রিফাইন্ড বা পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির টার্গেট পরিমাণ হচ্ছে ৬৩ লাখ মেট্রিক টন। পরিশোধিত জ্বালানির মধ্যে আমদানিকৃত উল্লেখযোগ্য জ্বালানিগুলো হচ্ছে অক্টেন, ডিজেল, কেরোসিন এবং বিমানের জ্বালানি জেপি-১।তিনি বলেন, দেশের ভেতরে শুধু কেরোসিনের বার্ষিক চাহিদা হচ্ছে ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রতিবছর পরিশোধিত জ্বালানি উত্পাদন করে ১১ লাখ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন। সাধারণত দেশে জ্বালানি নিরাপত্তায় সব সময় ৬০ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখা হয়। এছাড়া প্রতি মাসে ১৪/১৫টি পার্সেলে জ্বালানি তেল বন্দরে ভিড়ে বলে তিনি জানান।

প্রজন্মনিউজ২৪/ওসমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন