কৃষক মহীর আলীর কষ্টের জীবন

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৫৯:৪৩ || পরিবর্তিত: ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৫৯:৪৩

বয়স সত্তরের কাছাকাছি ‍সুঠাম দেহের অধিকারী মহির আলী একজন অতি দরিদ্র সাধারণ কৃষক। স্ত্রী সহ একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।

মেয়ে শেফালির  বিয়ে  দিয়েছেন অনেক আগেই এবং তার কয়েকটি ছেলেও মেয়ে  আছে। মহির আলীর একমাত্র ছেলে কয়েক বছর পূর্বে বিয়ে করেছে। এখন তার দুই ছেলে নিয়ে সে শ্বশুর বাড়ি ঘরজামাই থাকে। বুড়ো বাবা মায়ের কোনো খোজ-খবর রাখে না।

একসময়ের শক্তিশালী মহীর আলীর  শরীরে আগের মত আর  সেই শক্তি নেই ।শরীরটা অনেকটা নুয়ে পড়েছে। স্ত্রীকে নিয়ে মহীর আলী  অতিকষ্টে, অতি সাধারণ জীবন –যাপন করছেন একটি কুঁড়ে ঘরে। প্রায় দিন মহির আলীকে অনাহারে-অর্ধাহারে কাটাতে হয় এতটুকু খাবারের অভাবে। বাল্যকাল  থেকে  মহির আলী পরের জমিতে কাজ করে দিনাতিপাত করে । যৌবনকালে ভীষণ শক্তির অধিকারী ছিলেন এই মহির আলী।

কোন গাছ কাটা হলে গাড়িতে ‍উঠানোর সময় দেখা যেত মহীর আলী একদিকে একা ধরেছেন অন্যদিকে কয়েকজনকে ধরতে হয়েছে। আলসেমী কি জিনিস সেটা কখনো তার চরিত্রে  লক্ষ করা যায় নি। একাধারে অনেকগুলি কাজে তিনি পারদর্শী ছিলেন ।

মহীর আলীর গ্রামে তার মত দক্ষ কৃষক আর নেই  একথা সকলেই একবাক্যে মেনে নেই। খুব অল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি সকলের কাজ করে দিতেন। কোন কাজে কখনো কাউকে না বলতেন না। বাড়ি ঘর মেরামতের কাজে তার চেয়ে দক্ষ কেউ ছিল না।

ঝড়-বৃষ্টিতে কারো বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেলে তিনি সকলের আগে সেখানে গিয়ে হাজির হতেন এবং সুনিপুণ ভাবে মেরামত করে দিতেন । রোদ-ঝড়-বৃষ্টি ,যাই হোক কোনদিন তাকে ঘরে বসে থাকতে দেখা যায় নি। শক্তিশালী এই লোকটি সবসময় মানুষের সাথে অতি বিনয়ের সাথে কথা বলেন।

শিশুরা তাকে দারুন পছন্দ করেন ।  অথচ এক সময়ের সবার প্রয়োজনের সেই মহীর আলী এখন ভীষণ  অসুস্থ কেউ তার খবর রাখে না। যেই সন্তানকে তিনি অতি কষ্টে নিজে খেয়ে না খেয়ে লালিত-পালিত করেছেন সেই সন্তান আজ তাকে ছেড়ে বহুদুরে শ্বশুড় বাড়িতে অবস্থান করছে ।

টাকার অভাবে মহির আলী এতটুকু ওষুধ কিনে খেতে পারেন না। আদরের নাতী-নাতনীর মুখটুকু দেখতে পান না। এই মহীর আলী সারা জীবন শুধু মানুষকে দিয়েই গেছেন বিনিময়ে পেয়েছেন শুধু বঞ্চণা আর না পাওয়ার যন্ত্রনা। ওদের প্রতি কি সমাজের কোন দায়বদ্ধতা নেই।

এলাকার  বিত্তবানদের প্রতি আহবান তারা  যেন এই সকল  অসহায় মহীর আলীদের প্রতি একটু খোজ-খবর রাখেন। তারা যেন শেষ বয়সটা  একটু শান্তিতে অতিবাহিত করতে পারেন।

লেখক:-মো:-নুরুজ্জামান

প্রজন্মনিউজ২৪/জামান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন